সংবাদদাতা, লালবাগ: বর্তমান সময়ে থিম পুজোর রমরমার মধ্যেও সাবেকিয়ানায় স্বতন্ত্রতা বজায় রেখেছে লালগোলা রেলওয়ে স্টেশন সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের পদ্মাপাড়ের লালগোলার এই পুজো চলতি বছরে ৬১ বছরে পা দিতে চলেছে।
সংবাদদাতা, লালবাগ: বর্তমান সময়ে থিম পুজোর রমরমার মধ্যেও সাবেকিয়ানায় স্বতন্ত্রতা বজায় রেখেছে লালগোলা রেলওয়ে স্টেশন সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের পদ্মাপাড়ের লালগোলার এই পুজো চলতি বছরে ৬১ বছরে পা দিতে চলেছে।
লালগোলা স্টেশনের পাশেই পুজো কমিটির নিজস্ব দুর্গা মন্দির রয়েছে। ওই মন্দিরে চারদিন ধরে উৎসবের মেজাজে পুজো হয়। ষষ্ঠীর সকালে মন্দিরে ঘট স্থাপনের মধ্যে পুজো শুরু হবে। পুজোর দিনগুলিতে মৃন্ময়ী মা এখানে চিন্ময়ী হয়ে ওঠেন। লালগোলা রেলওয়ে স্টেশন কমিটির চিন্ময়ী মায়ের রূপ দর্শন করতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মন্দিরের সামনে উপচে পড়া ভিড় ছিল।
পুজো কমিটির সভাপতি আশিস রায় বলেন, ২০১০ সালের পর থেকে মুর্শিদাবাদ জেলায় মণ্ডপ ও প্রতিমা সজ্জায় নিত্যনতুন শিল্পভাবনার মোড়কে থিমের জোয়ার এসেছে। জেলার অন্যান্য প্রান্তের পাশাপাশি লালগোলার বেশ কয়েকটি সর্বজনীন পুজো কমিটি সাবেকিয়ানা ছেড়ে থিমের দুর্গা শুরু করেছে। কিন্তু, আমরা মাকে নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষায় পক্ষপাতি নই। পুজো উদ্যোক্তাদের সকলেই দশভুজাকে চিরাচরিত রূপেই দেখতে চেয়েছেন। বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা থিমের প্রতি আকৃষ্ট হলেও প্রবীণদের অধিকাংশ মাকে সাবেকি রূপেই দেখতে চান। তাই থিমের জোয়ারেও সাবেকিয়ানা বজায় রেখে দেবীর আরাধনা করে চলেছি। পুজোর অন্যান্য উদ্যোক্তা রতন মণ্ডল, পিন্টু মণ্ডল, অমিত সাহা দিনরাত পুজো মণ্ডপে পড়ে থেকে প্রস্তুতির দেখভাল করছেন।
লালগোলা রেলওয়ে স্টেশন সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির মায়ের মৃন্ময়ী রূপের সুনাম জেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। দর্শনার্থীরা মাকে দর্শন করতে এসে চোখ ফেরাতে পারেন না। বেশ কিছুক্ষণ অপলক দৃষ্টিতে মায়ের দিকে তাকিয়ে থাকতে বাধ্য হন। পুজো কমিটির সম্পাদক অজয় ঘোষ বলেন, থিম নয়, মায়ের চিন্ময়ী রূপ দর্শন করতেই লালগোলাবাসীর পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে ছুটে আসেন। দর্শনার্থীরা এসে মায়ের রূপের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এটাই আমাদের প্রাপ্তি। প্রথা মেনে দশমীর রাতে ঢাক-ঢোল সহযোগে দেবীকে কলকলি নদীতে বিদায় জানানো হয়।