সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ট্রেনের কামরায় যাত্রীদের থেকে মানিব্যাগ, মোবাইল ছিনিয়ে চম্পট দিচ্ছে দুষ্কৃতীরা। ক্রমশ দুষ্কৃতীদের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠছে নলহাটি জংশনের ১ বি প্লাটফর্ম। অপরাধের কিনারা করতেও নাজেহাল রেল প্রশাসন। কারণ ওই প্ল্যাটফর্মে কোনও সিসি ক্যামেরা নেই। স্বভাবতই এই জংশনে যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
নলহাটি জংশনে প্রায়ই মোবাইল, মানিব্যাগ প্রতিদিন খোয়া যাচ্ছে যাত্রীদের। ভিড় ট্রেনে ওঠার সময় যাত্রীদের ব্যাগ কেটে টাকা, মোবাইল নিয়ে চম্পট দিচ্ছে দুষ্কৃতীরা। প্রতিদিন এই রেল জংশন দিয়ে নলাটেশ্বরী মন্দিরে আসা যাওয়া করেন পর্যটকরা। এলাকার পাশাপাশি লাগোয়া মুর্শিদাবাদ ও ঝাড়খণ্ডের বহু যাত্রীও এই নলহাটি জংশন থেকে ট্রেন ধরেন। অনেকে সর্বস্ব খুইয়ে লিখিত অভিযোগও করেছেন। কিন্তু অভিযোগ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দুষ্কৃতীরা ধরা পড়ছে না।
বৃহস্পতিবার সকালে নলহাটির বাসিন্দা পেশায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কর্মী সৌরভ শর্মা এমনই ছিনতাইবাজদের খপ্পরে পড়ে দামি মোবাইল ফোন খোয়ালেন। সৌরভবাবু বলেন, আমি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সাঁইথিয়া শাখার কর্মী। প্রতিদিনের মতো এদিন সকালে আজিমগঞ্জ-হাওড়া কবিগুরু এক্সপ্রেস ট্রেন ধরতে আসি। প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে মোবাইল ঘাটছিলাম। ট্রেনে যখন উঠতে যাই তখন মোবাইলটি পকেটে ভরি। পরে ট্রেনে উঠে দেখি মোবাইল গায়েব! তৎক্ষনাৎ ট্রেন থেকে নেমে রেল পুলিশে অভিযোগ জানাই। পরে অন্য যাত্রীদের কাছ থেকে জেনেছি, এই ঘটনা প্রথম নয়। এই প্লাটফর্মে ট্রেনে ওঠার সময় নিত্যদিন যাত্রীদের মোবাইল, মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিচ্ছে দুষ্কৃতীরা। তিনি বলেন, ওই ফোনে ব্যাঙ্ক সহ আমার অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি রয়েছে। এই প্লাটফর্ম নেশারুদের অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। রেল পুলিশের ভ্রুক্ষেপ নেই। ব্যস্ততম স্টেশন, অথচ যাত্রী নিরাপত্তা বলে সেভাবে কিছু নেই! এলাকার বাসিন্দা রাজেশ শর্মা বলেন, ওই প্লাটফর্মে সিসি ক্যামেরা নেই। আরপিএফ, জিআরপিরা ঠিকমতো নজরদারি চালান না। সেই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছে দুষ্কৃতীরা। খুবই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। রেলের কাছে অনুরোধ, সিসি ক্যামেরা লাগানোর পাশাপাশি যাত্রীদের ট্রেনে ওঠার সময় রেল পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হোক।
এদিকে, এলাকার বাসিন্দারা বলেন, নতুন নতুন বন্দে ও অমৃত ভারত ট্রেনের উদ্বোধন হচ্ছে। কিন্তু যাত্রী নিরাপত্তার কথা ভাবছে না রেল। শুধু আয়ের কথা চিন্তা করছে। এই জংশনে অধিকাংশ এক্সপ্রেস ট্রেনের কোনো স্টপেজ নেই। হাতেগোনা যে দু’একটি এক্সপ্রেস ট্রেনের স্টপেজ রয়েছে, তাতেও আতঙ্ক নিয়ে উঠতে হচ্ছে। সব দিক থেকেই অবহেলিত প্রাচীন এই জংশন। এব্যাপারে নলহাটি আরপিএফ ইন্সপেক্টর লক্ষ্মীশংকর যাদব বলেন, ‘ওই যাত্রীর অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে ওই্ প্লাটফর্মে সিসি ক্যামেরা না থাকায় সমস্যা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, ওই প্লাটফর্মে রেল পুলিশ থাকে। কিন্তু যাত্রীদেরও তো সজাগ থাকতে হবে।