Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

১০ বছর বোনাস বাড়ায়নি রেলমন্ত্রক, শ্রমিক ও কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ

রেলকর্মীদের ৭৮দিনের বোনাস ঘোষণা করে পিঠ চাপড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিল রেলমন্ত্রক। কিন্তু শ্রমিক মহলে এনিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

১০ বছর বোনাস বাড়ায়নি রেলমন্ত্রক, শ্রমিক ও কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ
  • ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: রেলকর্মীদের ৭৮দিনের বোনাস ঘোষণা করে পিঠ চাপড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিল রেলমন্ত্রক। কিন্তু শ্রমিক মহলে এনিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। রেলের কর্মী ও শ্রমিকদের অভিযোগ, তাঁদের ন্যূনতম বেতন ৭০০০টাকা ধরে রেলমন্ত্রক বোনাস নির্ধারণ করে। ৭৮দিনের বোনাস দিয়েও সর্বোচ্চ বোনাস হবে ১৭ হাজার ৯৫০টাকা। কর্মীদের দাবি, ২০১৪ সাল থেকে কেন্দ্র একই বোনাস দিয়ে যাচ্ছে। জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় খরচ বাড়ছে। অথচ কেন্দ্র কর্মীদের বোনাস বাড়াচ্ছে না। প্রতি বছর রেলের মুনাফা বাড়ছে। সেই মুনাফার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই বোনাস বাড়ার কথা। তাতে কর্ণপাত করছে না রেলমন্ত্রক।

Advertisement

শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের দাবি, ২০০৬ সালের পে কমিশন অনুযায়ী রেলকর্মীদের ন্যূনতম বেতন ছিল ৭০০০টাকা। ২০১৬ সালে নতুন পে কমিশনের বেতন কাঠামো বহু বছর আগেই লাগু হয়েছে। সেখানে ন্যূনতম বেতন করা হয়েছে ১৮ হাজার টাকা। ২০২৬ সালে প্রধানমন্ত্রী অষ্টম পে কমিশনের ঘোষণা করেছেন। অথচ এখনও সেই ষষ্ঠ পে কমিশনের বেতন কাঠামো ধরেই বোনাস নির্ণয় করছে বিজেপির এমপি অশ্বিনী বৈষ্ণবের হাতে থাকা রেলমন্ত্রক। এরফলে বোনাস নিয়ে প্রবল অসন্তোষ রেলকর্মীদের মধ্যে।
সিএলডব্লুর সিটু নেতা রাজীব গুপ্ত বলেন, ২০১৪ সাল থেকে রেল আর বোনাস বৃদ্ধি করেনি। আমরা বারবার দাবি করেছি, বোনাস হিসেবের ক্ষেত্রে ২০১৬ সালের পে কমিশনের সুপারিশকে অন্তত কার্যকর করা হোক। তাও করা হয়নি। আমরা চা‌‌ই রেলকর্মীদের বেতন ন্যূনতম ২৫ হাজার টাকা ধরে বোনাস দেওয়া হোক।
সিএলডব্লুর আইএনটিইউসি নেতা নেপাল চক্রবর্তী বলেন, বিজেপির শ্রমিক শোষণের এর থেকে বড় উদাহরণ আর কী হতে পারে? সবার বোনাস বৃদ্ধি হচ্ছে। কিন্তু রেলকর্মীদের বোনাস একই থেকে গিয়েছে। 
শুধু রেল নয়, বোনাস নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে আরেক কেন্দ্রীয় সংস্থা সেইলের কর্মীরা। ২০২২ সালে তাঁরা বোনাস বাবদ পেয়েছিলেন ৪০ হাজার ৫০০টাকা। অথচ ২০২৫ সালে তাঁদের জন্য বোনাস বরাদ্দ করা হয়েছে ২৯ হাজার ৫০০টাকা। শ্রমিকদের দাবি, শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে বৈঠকে কর্তৃপক্ষ ৩১ হাজার টাকা বোনাস দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। শ্রমিক ইউনিয়নগুলি ৩২ হাজার ৫০০টাকার দাবিতে অনড় থাকে। তারপর বৈঠক ভেস্তে যায়। 
তারপরই শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে ২৯ হাজার ৫০০টাকা বোনাস ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। সিটু নেতা বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমরা এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছি। আইএনটিইউসি নেতা রজত দীক্ষিত বলেন, শুক্রবার আমরা কালো ব্যাচ করে সেইলের অধীনে থাকা ডিএসপি কারখানায় যাব। সেখানে ডিরেক্টর ইনচার্জকে ঘেরাও করা হবে।
বৃহস্পতিবার তৃতীয়ার রাত পর্যন্ত ইসিএলের বোনাস কত হবে, তা চূড়ান্ত হয়নি। এদিন দিল্লিতে চলছে শ্রমিক ইউনিয়ানের প্রতিনিধির সঙ্গে কর্তৃপক্ষের বৈঠক।

সম্পর্কিত সংবাদ