


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ২০২৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের অন্যতম ‘এজেন্ডা’ হতে চলেছে ‘অমৃত ভারত’ স্টেশন। বৃহস্পতিবারই তা একপ্রকার নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। পরবর্তী চার বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ১ হাজার ৩০০টি রেলওয়ে স্টেশন পুরোপুরি অমৃত ভারত হবে কি না, বৃহস্পতিবার রাজস্থানের বিকানিরে নরেন্দ্র মোদির অনুষ্ঠানের পরেই এনিয়ে খোঁজ নেওয়া শুরু করেছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। এদিন বাংলার তিনটি সহ দেশের মোট ১০৩টি অমৃত ভারত রেলওয়ে স্টেশনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। উপস্থিত ছিলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। রেল সূত্রে জানানো হয়েছে, পরবর্তী দু’বছরের মধ্যে অন্তত ৭০০টি স্টেশনকে অমৃত ভারতে পরিণত করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। পরের দু’বছরে আরও ৬০০টি স্টেশনকে অমৃত ভারতে রূপান্তরিত করা হবে।
সরকারি সূত্রে খবর, এদিন বিকানিরে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান শেষের পরেই রেল আধিকারিকদের নিয়ে এই বিষয়ে একদফা বৈঠক করেছেন অশ্বিনী বৈষ্ণব। সেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে দেশের আরও ১০০টি রেল স্টেশনকে অমৃত ভারত কর্মসূচির আওতায় বিশ্বমানের হিসেবে গড়ে তোলা হবে। ২০২৭ সালের মধ্যে আরও ৫০০টি অমৃত ভারত স্টেশন তৈরি করা হবে। এই সমীকরণ মেনে চললে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যাবতীয় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে। যদিও সারা দেশে রেল স্টেশনের সংখ্যা ছ’হাজারেরও বেশি। এর মধ্যে ১ হাজার ৩০০টি স্টেশনকে অমৃত ভারত কর্মসূচিতে চিহ্নিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজস্থানে একাধিক রেল প্রকল্পের উদ্বোধন এবং শিলান্যাস করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। চালু করেন নতুন রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাও।
এদিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মোদি ফের বুঝিয়েছেন, রেলের যাবতীয় উন্নয়ন তাঁর আমলেই হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১১ বছরে দেশের উন্নয়নের কাজ দ্রুত গতিতে এগচ্ছে। আগে রেলের উন্নয়নে যে টাকা খরচ হতো, এখন তার তুলনায় অন্তত ছ’গুণ বেশি অর্থ ব্যবহার হয়। উন্নয়ন দেখে সারা বিশ্বের মানুষ চমকে যাচ্ছে। মোদি বলেন, ট্রেন কোচের আধুনিকীকরণ হচ্ছে। দেশের প্রায় ৭০টি রুটে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চলছে। নমো ভারত ট্রেন রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করেছে। প্রায় ৩৪ হাজার কিলোমিটার রেল লাইন বসানো হয়েছে। মালগাড়ির জন্য আলাদা লাইনের কাজ হচ্ছে। দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন রূপায়িত হচ্ছে। আগে দেশের রেল স্টেশনগুলির কী অবস্থা ছিল, তা প্রত্যেকেই জানেন। এখন পরিস্থিতি পাল্টে গিয়েছে।