কীর্ণাহারে জমি দখলমুক্ত করতে রেলের মাইকিং, এলাকার বাসিন্দাদের উৎকণ্ঠা
  • ১১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: কীর্ণাহারে রেলের জমি দখলমুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। আগে বিভিন্ন জায়গায় নোটিস টাঙানো হয়েছিল। শুক্রবার মাইকে ঘোষণা করে দখলদারদের সরে যেতে বলা হয়। এদিন রেল আধিকারিকরা কীর্ণাহার থানার পুলিশ, রেলপুলিশ ও বিদ্যুৎকর্মীদের নিয়ে স্টেশন লাগোয়া এলাকায় যান। তাঁরা দোকানদার ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেলের জমি খালি করে দেওয়ার অনুরোধ জানান। সেইসঙ্গে জানিয়ে দেন, নির্ধারিত সময় পার হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement

জুন মাসের শেষ সপ্তাহে কীর্ণাহারের স্টেশনপাড়া ও রেলগেট লাগোয়া এলাকায় নোটিস দেওয়া হয়েছিল। তাতে বলা হয়, ১২জুলাইয়ের মধ্যে রেলের জমি খালি করতে হবে। তা না হলে ১৩ জুলাই থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই সময়সীমা শেষ হতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। তাই এদিন ফের এলাকায় গিয়ে প্রচার চালায় রেল কর্তৃপক্ষ।
রেলের তালিকা অনুযায়ী, ওই এলাকায় ২০টির বেশি দোকান এবং কয়েকটি বাড়ির অংশ তাদের জমির মধ্যে পড়েছে। ফলে নোটিস পাওয়ার পর থেকে বহু মানুষ উদ্বিগ্ন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাই সবচেয়ে বেশি চিন্তায় রয়েছেন। স্থানীয় দোকানদার রতন মণ্ডল, মানিক দাস বলেন, বহুবছর ধরে আমরা এখানে ব্যবসা করছি। সরকারি নির্দেশ তো মানতেই হবে। তবে এখন বর্ষার মরশুমে দোকান সরাতে হলে বড় আর্থিক সমস্যায় পড়ব। এই দোকানই রোজগারের একমাত্র ভরসা। দোকান উঠে গেলে কীভাবে সংসার চালাব, জানি না।
এলাকার বাসিন্দা রুমা মণ্ডল, কল্পনা দাস বলেন, বহুদিন ধরে আমরা এই এলাকায় বাস করছি। বর্ষাকালে বাড়ির অংশ ভাঙতে বা সরাতে হলে প্রচণ্ড অসুবিধার মধ্যে পড়তে হবে।
রেলের আধিকারিকরা অবশ্য জানিয়েছেন, পুরো প্রক্রিয়াই আইনি বিধি মেনে করা হচ্ছে। আগেই নোটিস দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষ হলে সোমবার থেকে রেলের জমিতে থাকা বেআইনি নির্মাণ সরানোর কাজ শুরু হবে। স্বাভাবিকভাবেই রেলের এই ঘোষণায় উদ্বেগ বাড়ছে এলাকায়।