নির্মাল্য সেনগুপ্ত, রায়গঞ্জ: উত্তরবঙ্গের প্রাণকেন্দ্র শিলিগুড়ির সঙ্গে যোগাযোগের বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে ধুমডাঙ্গি-রঙ্গাপানি-বাগডোগরা আন্ডারগ্রাউন্ড টানেল নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্র সরকার। যার একাংশ অংশ রয়েছে উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া ব্লকের অধীনেও। চোপড়ার ধুমডাঙ্গি সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ওই টানেলের অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণের জন্য ডিপিআর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ হলে চোপড়ার ওই অংশে সমীক্ষা চালিয়ে প্রথমে জমির দাম নির্ধারণ করবে উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসন। পরবর্তীতে আন্ডারগ্রাউন্ড টানেল প্রকল্পের সার্ভিস রোডের জন্য জমি অধিগ্রহণ শুরু করবে উত্তর দিনাজপুর জেলার ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির সঙ্গে বিকল্প যোগাযোগের পথ হিসাবে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডোর বা চিকেনস নেকের নিরাপত্তা জোরদার করতে ধূমডাঙ্গি থেকে ভায়া রাঙ্গাপানি হয়ে বাগডোগরা পর্যন্ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্ডারগ্রাউন্ড টানেল নির্মাণের বিশেষ পরিকল্পনা নেয় কেন্দ্র। চলতি বছর রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব স্বয়ং স্ট্র্যাটেজিক এই ভূগর্ভস্থ রেলওয়ে টানেলের কথা ঘোষণা করেন। যা শুধু সাধারণের যাতায়াত উন্নত করবে না, সামরিকভাবেও এই টানেল যথেষ্ট গুরুত্ব পাবে। যেহেতু উত্তরবঙ্গের চিকেনস নেকের অংশটি নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের অনেকটাই কাছে। তাই যুদ্ধাবস্থা সহ যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই টানেল কেন্দ্রের একটি স্ট্র্যাটেজিক ব্যবস্থাপনা হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রায় ৩৪ কিমির এই বিশেষ টানেলপথে রেলওয়ে লাইনের পাশাপাশি সড়কপথ নির্মাণের পরিকল্পনা আছে বলে জানা গিয়েছে। অন্তত তিনটি টানেল পথ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ধুমডাঙ্গি-রাঙ্গাপানি-বাগডোগড়া আন্ডারগ্রাউন্ড টানেল নির্মাণের পরিকল্পনায় উত্তর দিনাজপুরের অংশে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রকল্পটিকে গুরুত্ব দিয়ে জেলার ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর কাজ চালাচ্ছে। তবে ডিপিআর প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট এলাকার জমির সমীক্ষা না হওয়া পর্যন্ত, চোপড়ায় অ্যাপ্রোচ রোডের জন্য কতটা পরিমাণ জমি প্রয়োজন? কতটা জমি অধিগ্রহণ করার দরকার সে ব্যাপারে এখন কিছু স্পষ্ট হচ্ছে না।