


নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ আবহে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে ভারতে। সংসদে দাঁড়িয়ে তা নিয়ে কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ পুরীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করছেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। খোঁচা দিয়েছেন মোদি সরকারকে। বৃহস্পতিবারও সেই কাজ করতে গিয়ে আবার ‘এপস্টাইন’ ইস্যু খুঁচিয়ে তুলেছেন তিনি। রাহুল বলেন, ‘প্রত্যেক দেশের মূল ভিত্তি হল তাদের শক্তি সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা শুধুমাত্র আমাদের হাতেই থাকার কথা। কিন্তু কার থেকে তেল কিনব, কার থেকে গ্যাস কিনব, রাশিয়া থেকে তেল কিনতে পারব কি না—এই বিষয়গুলিতে সিদ্ধান্ত নিতে সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে আমেরিকাকে। এটা দেশবাসী সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। তেল উৎপাদনকারী দেশগুলির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আমরাই ঠিক করব। ভারতের মাপেরই আর একটি দেশ কেন সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করবে?’ এই প্রশ্ন তুলেই এপস্টাইন ফাইলসের প্রসঙ্গ টেনে হরদীপকে কটাক্ষ করেন তিনি। যৌন কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত ওই ফাইলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর নাম রয়েছে বলে অভিযোগ। সেই বিষয়কে হাতিয়ার করে রাহুলের ব্যাখ্যা, ‘ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি নেওয়ার অধিকার কেন আমেরিকার হাতে থাকবে? এটা একটা জটিল ধাঁধা। এই ধাঁধার সমাধান করে ফেলেছি। আসলে কম্প্রোমাইজ (আপস) হয়ে গিয়েছে।’ একথা বলে কংগ্রেসের নিশানা করেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। লোকসভায় বক্তব্য রাখার সময় রাহুল এপস্টাইন প্রসঙ্গ তুলতেই তুমুল শোরগোল পড়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামেন ২৪ ঘণ্টা আগে অনাস্থা প্রস্তাবকে পরাজিত করে ফিরে আসা স্পিকার ওম বিড়লা। বলেন, ‘দেশে গ্যাসের ঘাটতি নিয়ে নোটিস দিয়েছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। এই বিষয়ে তাঁকে বলতে সুযোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু, দায়িত্ববান বিরোধী দলনেতার মতো আচরণ না করে তিনি নোটিস ছাড়াই অন্যান্য বিষয় টেনে আনছেন। আমি আপনাকে আবার বলছি, এভাবে সংসদ চলে না। নিয়ম মেনেই অধিবেশন চলবে।’ এই কথা বলেই চেয়ার ছেড়ে কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান ওম বিড়লা। পরে নিজের বক্তব্যে রাহুলের অভিযোগের জবাব দেন হরদীপ পুরীও। তিনি জানান, দেশে জ্বালানির কোনো অভাব নেই। সেই সময়ও বিরোধীরা স্লোগান দিতে থাকেন... ‘এপস্টাইন এপস্টাইন’! -ফাইল চিত্র