নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: অপারেশন সিন্দুরের সাফল্য প্রচারে বিশ্বের ৩৩ দেশ ভ্রমণে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের সদস্য নির্বাচন ইস্যুতে কংগ্রেস দ্বিধাবিভক্ত। দলের অন্দরে লেগে গিয়েছে রাহুল বনাম খাড়্গের ঠান্ডা লড়াই। প্রতিনিধিদলের সদস্য হতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী যে চারজনের নাম পাঠিয়েছিলেন, তা খারিজ করেছে মোদি সরকার। ওই নামের তালিকা থেকে মাত্র একজনকে নেওয়া হয়েছে। প্রাক্তন বিদেশ রাষ্ট্রমন্ত্রী আনন্দ শর্মা। বাকি রাহুলের পাঠানো গৌরব গগৈ, নাসির হোসেন, রাজা ব্রারকে জায়গা দেওয়া হয়নি। আনন্দ শর্মার পাশাপাশি শশী থারুর, মণীশ তিওয়ারি, সলমন খুরশিদ এবং অমর সিংকে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় প্রবল ক্ষুব্ধ রাহুল গান্ধী। প্রতিনিধিদলের তালিকায় তৃণমূলের ইউসুফ পাঠানের নাম থাকলেও তাঁকে পাঠাচ্ছে না দল। তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন রবিবার বলেন, দেশের স্বার্থে আমরা সর্বদা সরকারের পাশে আছি। কিন্তু বিদেশ নীতির বিষয়টি সরকারই দেখুক। সেখানে আমরা দল হিসেবে কোনও অবস্থান নেব না। দলের অনুমতি না নিয়ে যাকে ইচ্ছা বেছে নেওয়ার বিষয়টি মোটেই কাঙ্ক্ষিত নয়।
একইভাবে সরকারের এই নাম নির্বাচন পন্থার বিরোধিতা করেছেন জয়রাম রমেশ। বিষয়টি নিয়ে মোদি এবং বিজেপি রাজনীতি করছে বলেই তোপ দেগে বলেছেন, পহেলগাঁওয়ের নিরাপত্তা ব্যর্থতার কথা ভুলিয়ে দিতে চাইছেন। সরকার ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে চাইছে। বিদেশে প্রতিনিধিদলে নিজেরাই যখন নাম ঠিক করবে, তাহলে আমাদের থেকে নাম চাওয়া হল কেন? একই সুর উদ্ধবপন্থী শিবসেনার সাংসদ সঞ্জয় রাউতেরও। তাঁদের দল থেকে প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদিকে প্রতিনিধিদলে রেখেছে সরকার। তাই সঞ্জয় রাউতের মন্তব্য, আমাদের দলে লোকসভায় ন’জন সাংসদ রয়েছেন। তার মধ্যে কাউকেই নেওয়া হল না কেন?
যদিও নাম নির্বাচনের এই ইস্যুতে বিতর্কের বিপক্ষে মল্লিকার্জুন খাড়্গে। বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, জয়রাম রমেশকে দিয়ে রাহুল গান্ধী যে সমালোচনা করাচ্ছেন, তা খাড়্গের না-পসন্দ। বিষয়টিকে মোদির বিদেশ নীতির ব্যর্থতা হিসেবেই তুলে ধরার পক্ষে খাড়্গে। শশী থারুর, আনন্দ শর্মা উভয়েই বিদেশ মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। সলমন খুরশিদ বিদেশমন্ত্রী। সঙ্গে মণীশ তিওয়ারি প্রাক্তন তথ্য-সম্প্রচারমন্ত্রী। বিদেশে ভারতের অবস্থান তুলে ধরতে কংগ্রেসের প্রাক্তন মন্ত্রীদেরই বেছে নিতে বাধ্য হলেন মোদি—এই মর্মে প্রচারের পক্ষে খাড়্গে। এই নিয়েই রাহুল আর খাড়্গের মধ্যে শুরু হয়েছে চাপা লড়াই। শশী থারুরের মতো মণীশ তিওয়ারিও ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন, তিনি সরকারি প্রতিনিধিদলে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। যদিও সলমন খুরশিদ বলেছেন, দল যা সিদ্ধান্ত নেবে তাই হবে।