পুনে: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অশান্তির ঘটনায় দেশজুড়ে বিতর্ক চলছে। এরইমধ্যে ফের গেরুয়া তাণ্ডব মহারাষ্ট্রের পুনেতে? এবারের ঘটনাস্থল সিওইপি টেকনোলজিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও হস্টেল চত্বর। শুক্রবার রাতে সেখানে হামলার অভিযোগ উঠল এবিভিপির বিরুদ্ধে। পড়ুয়াদের অভাব-অভিযোগ শুনতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ‘ছাত্র কি গুঞ্জ’ কর্মসূচি চালাচ্ছে কংগ্রেস। শনিবার পুনেতে রাহুল গান্ধীর এই কর্মসূচি ভেস্তে দিতে সংঘ পরিবারের ছাত্র সংগঠন এই হামলা চালায় বলে হাতশিবিরের অভিযোগ।
শুক্রবার কর্মসূচির প্রচার ঘিরে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়ার (এনএসইউআই) কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে এবিভিপি। অভিযোগ, হস্টেলে ঢুকে ছাত্রীদের হুমকি দিচ্ছিল এবিভিপি কর্মী-সমর্থকরা। এমনকি কর্মসূচির পক্ষে কথা বলায় দুই ছাত্রীকে ভয় দেখিয়ে হস্টেলেই আটকে রাখা হয়। যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে এবিভিপির পালটা দাবি, কর্মসূচিতে নাম লেখানোর জন্য ছাত্রীদের উপর চাপ সৃষ্টি করছিল এনএসইউআই। সংঘর্ষে দু’পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে শনিবার যুব কংগ্রেসের ৫০ থেকে ৬০ জন কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে পুলিশ। কংগ্রেস নেতা পবন খেরার তোপ, ‘শুক্রবার রাতে আরএসএস-বিজেপির আসল চেহারা সামনে চলে এসেছে। সিওইপি হস্টেলে ঢুকে ছাত্রীদের ভয় দেখায় এবিভিপির গুন্ডারা। ওরা আসলে বোঝাতে চাইছে যে মেয়েদের ঘরের ভিতরে থাকা উচিত। মহারাষ্ট্রে স্কলারশিপের তহবিলের টাকা নয়ছয় হচ্ছিল। এবিষয়ে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন কয়েকজন ছাত্রী। তাদের চিহ্নিত করে হুমকি দিয়েছে এবিভিপি। পড়ুয়াদের ভিডিয়ো করে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়।’ শারদপন্থী এনসিপি বিধায়ক রোহিত পাওয়ারের কটাক্ষ, ‘রাহুল গান্ধীকে ভয় পাচ্ছে বিজেপি।’ পালটা কংগ্রেসের কর্মসূচিকে ‘পয়সে কি গুঞ্জ’ বলে কটাক্ষ করেছে পদ্ম শিবির। বিজেপি মুখপাত্র নবনাথ বানের দাবি, সমাবেশে ভিড় বাড়াতে প্রায় ১০ কোটি টাকা খরচ করেছে কংগ্রেস। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উড়িয়ে মহারাষ্ট্র কংগ্রেসের মুখপাত্র শচীন সাওয়ান্তের দাবি, বিজেপি রাহুল গান্ধীর জনপ্রিয়তায় বিচলিত হয়ে পড়েছে।