নয়াদিল্লি, ২৫ মে: গত দশ দিনে দেশে চার বার বেড়েছে জ্বালানী তেলের দাম। তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তীব্র সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে 'মেহেঙ্গাই মানব' বলে কটাক্ষ করেছেন। রাহুল গান্ধী তাঁর সমাজমাধ্যম পোষ্টে লেখেন,'মেহেঙ্গাই মানব' মোদী আবারও আঘাত হেনেছেন। তিনি কিস্তিতে পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়ান, এটা নিশ্চিত করেন যে আপনাদের পকেট যেন নীরবে, একটু একটু করে কেটে নেওয়া হয়।
লোকসভার বিরোধী দলের নেতা বলেন, কয়েক মাস ধরে আমি আসন্ন অর্থনৈতিক ঝড়ের বিষয়ে সতর্ক করে আসছিলাম। কিন্তু মোদীজি, তাঁর স্বভাব অনুযায়ী, তখন নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন এবং নির্বাচন শেষ হওয়ার মুহূর্তেই তিনি পেট্রল ও ডিজেলের দাম ৮ টাকা বাড়িয়ে দিলেন। এবং, এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কেবল অব্যাহত থাকবে।
১৫ই মে থেকে জ্বালানির মূল্য সংশোধন পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে পেট্রল ও ডিজেলের মোট মূল্যবৃদ্ধি চলছেই, যা দেশের অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির চাপ এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।
তেল কোম্পানিগুলোর দাবি, খুচরা জ্বালানির দামে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো পরিবর্তন না হওয়ায়, এই পরপর মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের উচ্চমূল্য, পরিশোধনের মুনাফার হার কমে আসা এবং টাকার দুর্বলতার কারণে আমদানির খরচ ব্যাপক ভাবে বেড়েছে।
ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড সম্মিলিতভাবে ভারতের জ্বালানি বাজারের ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে।
ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইজরায়েল যুদ্ধ এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। আর তার জেরেই এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটল, দাবি তেল সংস্থাগুলোর। সংঘাতের প্রথম আড়াই মাসে, কাঁচামালের খরচ বাড়া সত্ত্বেও জ্বালানি বিক্রেতারা পাম্পে তেলের দাম কম রেখেছিল। সরকারের মতে, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল দেশবাসীকে মুদ্রাস্ফীতির হাত থেকে রক্ষা করা।