Bartaman Logo
৩০ জুলাই, ২০২৬

বর্বরতা! শাহের ইস্তফার দাবিতে অনড় রাহুল; সংযম দেখিয়েছে পুলিশ, সাফাই কেন্দ্রের

লাঠিচার্জ, পুলিশি বর্বরতা এবং সরকারের ভূমিকা। এই তিন প্রশ্নে ক্রমেই বাড়ছে শাসক-বিরোধী স্নায়ুর লড়াই।

বর্বরতা! শাহের ইস্তফার দাবিতে অনড় রাহুল; সংযম দেখিয়েছে পুলিশ, সাফাই কেন্দ্রের
  • ৩০ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: লাঠিচার্জ, পুলিশি বর্বরতা এবং সরকারের ভূমিকা। এই তিন প্রশ্নে ক্রমেই বাড়ছে শাসক-বিরোধী স্নায়ুর লড়াই। সংসদ থেকে সড়ক, সর্বত্র শিক্ষামন্ত্রীর থেকে স্লোগান বদলে গিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দিকে। ইস্তফা দিতে হবে অমিত শাহকেই। দ্ব্যর্থহীন ভাষায় এই দাবি তুলেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর সাফ কথা, পুলিশি বর্বরতার দায় নিতে হবে তাঁকেই। প্রথমে সংসদ, তারপর সাংবাদিক সম্মেলন। রাহুল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ছাত্র-যুবর উপর লাঠি, পেলেট গান চালানোর দায়ে অমিত শাহকে প্রধানমন্ত্রী বরখাস্ত না করা পর্যন্ত চুপ করব না। প্রশ্ন তুললেন, অমিত শাহ যদি দোষী না হন, তাহলে সংসদে এসেও কেন লোকসভায় গরহাজির থেকে গেলেন? কেন হাজির হলেন না প্রধানমন্ত্রী? যদিও সংসদে মোদি সরকারের মন্ত্রী বললেন, ‘সেদিন কোনো গুলিই চলেনি। যতটা প্রচার করা হচ্ছে, অত কিছু হয়নি।’ উপরন্তু রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত হল গেরুয়া শিবির। বিরোধী দলনেতাও বলে দিলেন, ‘সংসদে যা বলেছি, তার জন্য কোনোভাবেই বিজেপি-আরএসএসের কাছে ক্ষমা চাইব না।’

Advertisement

এদিন প্রশ্ন ফাঁসের সাজা বৃদ্ধি সংক্রান্ত সংশোধনী বিলের আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন রাহুল। ফুঁসে উঠেছিলেন ২০ জুলাই ছাত্র-যুবর ‘সংসদ চলো’ অভিযানে লাঠিচার্জ, পেলেট গান এবং শকিং স্টিক দিয়ে আঘাতের বিরোধিতায়। শাসক শিবিরকে ‘অন্ধভক্ত’ এবং আরও কিছু ‘বাছাই করা বিশেষণে’ অভিহিত করেন তিনি। একইসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বর্বরতার জন্য সরাসরি দায়ী করেন রাহুল। তখনই বেঁধে যায় গোল। রাজনাথ সিং, কিরেন রিজিজুর মতো মন্ত্রীরা তো বটেই, গোটা বিজেপি বেঞ্চ রে রে করে ওঠে। প্রমাণ ছাড়া কীসের ভিত্তিতে অমিত শাহকে দায়ী করছেন রাহুল গান্ধী? ক্ষমা চান। সরব হল বিজেপি। রাহুলের বক্তব্য চলাকালীনই মাইক বন্ধ হয়ে যায়। আর সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভে নেমে আসে ওয়েলে। সরকার পক্ষের স্লোগান, ‘রাহুল গান্ধী মাফি মাঙ্গো।’ আর বিরোধীদের পালটা, ‘এলওপি (লিডার অব অপোজিশন) কো বোলনে দো। ডর গয়া ডর গয়া/ অমিত শাহ ডর গয়া। যব যব মোদি ডরতা হ্যায়/পুলিশ কো আগে করতে হ্যায়।’ উভয়পক্ষের স্লোগান-বিক্ষোভে উত্তাল হল লোকসভা। দু’বার হল মুলতুবিও। শেষমেশ দুপুরে রাহুলের বক্তব্য অসম্পূর্ণ রেখেই বিল পাশে উদ্যত হলেন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। প্রবল হট্টগোলে ধ্বনিভোটে পাশও হয়ে গেল ‘দ্য পাবলিক এগজামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল ২০২৬।’ 
জবাবি ভাষণ দিতে গিয়ে মন্ত্রী বললেন, ‘যন্তর মন্তর সহ বিভিন্ন রাস্তায় ছাত্র-যুব সমাবেশে পুলিশি নির্যাতন এবং দমনপীড়ন নিয়ে দেশজুড়ে আলোড়ন উঠলেও কেন্দ্রীয় সরকার মনে করে, পুলিশ যথেষ্ট সংযমী ছিল। প্রচার করা হচ্ছে, অত কিছু হয়নি। তাই বিরোধীরা যতই বলুন অত্যাচার হয়েছে, আসলে পুলিশ যথাসম্ভব ধৈর্য দেখিয়ে সংযমের পরিচয় দিয়েছে। নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে কোনো প্রাণহানি না ঘটে। আসলে ছাত্র-যুব আন্দোলনে অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছেন রাহুল গান্ধী। তিনি ভেসে থাকার জন্য হঠাৎ অতি সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। কংগ্রেস আমলে তো অসমে ছাত্র আন্দোলনের সময় ৮৬০ জনকে হত্যা করা হয়েছিল গুলিতে। তাছাড়া গুলি চালানো বা এ ধরনের নির্দেশ দেন ম্যাজিস্ট্রেট। মন্ত্রী নন। এটা অন্তত রাহুল গান্ধীর জানা উচিত ছিল।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ