সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: রঘুনাথপুর শহর এলাকায় অবৈধ দখলদারি ও ফুটপাতের জবরদখল সরানোর নির্দেশ দিল পুরসভা। বৃহস্পতিবার পুরসভার তরফে এনিয়ে মাইকিং করা হয়। আগামী ৭ জুনের মধ্যে অবৈধ দখলদারি ও ফুটপাত পরিষ্কার করার জন্য সময় দেওয়া হয়েছে। উক্ত সময়ের মধ্যে ফুটপাত ছেড়ে না দেওয়া হলে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। মাইকিংয়ের পরই শহরজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তবে শহরের কোন অংশ দখল মুক্ত করা হবে তার জন্য কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশিকা দেওয়া হয়নি। ফলে ব্যবসায়ীদের অনেকেই উদ্বেগে রয়েছেন। বিরোধীদের তরফে এর তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
পুরসভার চেয়ারম্যান তরণী বাউরি বলেন, কয়েকদিন আগে মহকুমা শাসকের দপ্তরে একটি ভিডিও কনফারেন্স হয়েছিল। সেখানে পুরসভার আধিকারিকরা ছিলেন। সেখানে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পলের তরফে শহরের ফুটপাতের অবৈধ দখলদারি হাটানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই মতো পুরসভার তরফে মাইকিং করা হয়েছে। আমাদের তরফেও মৌখিকভাবে কিছু দোকানদারকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রঘুনাথপুর শহরের বেশ কিছু ফুটপাত ও সরকারি জায়গা দখল করে দোকানপাট তৈরি হয়েছে। রঘুনাথপুর বড়ো কালী মন্দির থেকে নতুন বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ফুটপাত দখল হয়েছে। তবে পুরসভার একটি সূত্রের দাবি, রাজ্য সড়কের দু’পাশের ফুটপাত দখল করে থাকা দোকানগুলি পূর্তদপ্তরের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। সেক্ষেত্রে সেইগুলি হাটানোর ব্যাপারটি পূর্তদপ্তর দেখবে। পুরসভা শুধুমাত্র তার নিজের এলাকায় যে অবৈধ দখলদারি রয়েছে, তা দেখবে। পূর্তদপ্তরের দাবি, রাজ্য সড়কের দু’পাশের ফুটপাত দখল করে থাকা দোকানদারদের অনেকবার নোটিস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, তারা উঠে যায়নি। এবার তাদের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ করা হতে পারে।
ব্যবসাদারদের অনেকেই বলেন, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে কাপড়, জুতো, ফল, চা, চপের মতো ছোটো দোকান করে সংসার চলে। এখন দোকানগুলি ভেঙে দিলে কোথায় গিয়ে দাঁড়াব?
রঘুনাথপুর শহর কংগ্রেস সভাপতি তারকনাথ পরামানিক বলেন, বিজেপি বড়ো লোকের পার্টি। গরিবদের পেটে মারছে লাথি। উচ্ছেদের আগে পুনর্বাসন ব্যবস্থা করতে হবে। না হলে দোকানদারদের স্থানীয় কারখানাগুলিতে চাকরি ব্যবস্থা করতে হবে। সরকার যে ভাবে বুলডোজার চালানোর রাজনীতি করছে তার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। বিজেপির রঘুনাথপুর শহর মণ্ডল সভাপতি শান্তনু চট্টোপাধ্যায় বলেন, সরকারি নিয়ম মেনে কাজ হচ্ছে। ফুটপাত দখলের ফলে দুর্ঘটনা বাড়ছে। আগামী সোমবার মহকুমা প্রশাসনের তরফে শহরে মাপজোক করা হবে। যে দোকানগুলি অবৈধভাবে গজিয়ে উঠেছে, সেগুলি ভাঙা হবে। প্রথমেই সরাসরি বুলডোজার চালানো হবে না।