Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কেবল অভিষেকের টানে সাগরপাড়া থেকে জলঙ্গি আসেন বিশেষভাবে সক্ষম রফিকুল

জন্ম থেকেই বিশেষভাবে সক্ষম। ঠিকভাবে চলাফেরাও করতে পারেন না। তবুও নিজের প্রিয় নেতাকে একঝলক দেখার টানে কখনও হামাগুড়ি দিয়ে, কখনও টোটোয় চেপে প্রায় ১৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলেন রফিকুল মণ্ডল।

কেবল অভিষেকের টানে সাগরপাড়া থেকে জলঙ্গি আসেন বিশেষভাবে সক্ষম রফিকুল
  • ৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ডোমকল: জন্ম থেকেই বিশেষভাবে সক্ষম। ঠিকভাবে চলাফেরাও করতে পারেন না। তবুও নিজের প্রিয় নেতাকে একঝলক দেখার টানে কখনও হামাগুড়ি দিয়ে, কখনও টোটোয় চেপে প্রায় ১৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলেন রফিকুল মণ্ডল। সোমবার জলঙ্গির সাদিখাঁরদিয়াড় বিদ্যানিকেতনের মাঠে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভায় এভাবেই পৌঁছন তিনি।

Advertisement

রফিকুল মণ্ডলের বাড়ি সাগরপাড়ার সীমান্তবর্তী চক মথুরা গ্রামে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে বেশিদূর পড়াশোনা করতে পারেননি। হাঁটাচলায় অক্ষম হওয়ায় কোনও স্থায়ী কাজও জোটেনি। বাধ্য হয়ে ভিক্ষাবৃত্তির ওপরই নির্ভর করে তাঁর জীবনযাপন। তবুও তাঁর রাজনৈতিক পছন্দ তৃণমূল কংগ্রেস। আর প্রিয় নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
সেই ভালোবাসার টানেই এদিন সাগরপাড়া থেকে জলঙ্গিতে পৌঁছন তিনি। রফিকুল বলেন,আমি হাঁটতে পারি না, হামাগুড়ি দিয়েই চলাফেরা করি। দিদি আর আমাদের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দু’জনেই আমার খুব প্রিয়। আশপাশে যেখানেই সভা হয়, আমি যাই। আজও সেনাপতির ডাকে এসেছি।
তবে শুধু রফিকুল মণ্ডলই নন, এদিন সভাস্থলে মহিলা থেকে শুরু করে নতুন প্রজন্মের ভোটারদের মধ্যেও ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। সকাল থেকেই দলে দলে মানুষ ভিড় করতে শুরু করেন। তাঁদের অনেকের হাতেই দেখা যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাটআউট। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মঞ্চে পৌঁছতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন উপস্থিত জনতা। ‘জয় বাংলা’ থেকে ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। মঞ্চ থেকে তাঁদের দিকে হাত নাড়তেই আরও উদ্বেল হয়ে পড়ে সমর্থকরা। এরপরে সভা শেষ করে গাড়িতে উঠে হেলিপ্যাডে পৌঁছান তিনি। নটিয়াল থেকে সভায় এসেছিলেন উষশী দাস। তিনি বলেন, সকালে নটিয়াল থেকে এতটা পথ এসেছি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে খুব ভালো লাগে। এতদিন ফোনে দেখেছি, এবার সামনে থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছি, তাই হাতছাড়া করিনি। নিজের যুবসাথীর টাকা খরচ করেই এসেছি।
এদিকে সাগরপাড়া থেকে সভায় যোগ দেন মাধবী মণ্ডল, মিনতি মণ্ডলরা। তাঁদের কথায়, আমরা তৃণমূলের একনিষ্ঠ সমর্থক। দিদি যেভাবে আমাদের পাশে থাকেন, বার্ধক্যভাতা দিচ্ছেন, সেই কারণেই আমরা সভায় এসেছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ