Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বীরেন্দ্রকৃষ্ণের মহিষাসুরমর্দিনীর টানে আজও কদর কমেনি রেডিও চাচার

পিতৃপক্ষের শেষ হতে চললেই পুরনো ধুলে ঝেড়ে সেজে ওঠে বাড়ির আলমারিটা। শারদোৎসবের আগে বাঙালি মন দেয় গৃহসজ্জায়। আর এই সময়ই ঘরের টেবিলে পুরনো রেডিওটির হাল হকিকত জানতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন গৃহকর্তা।

বীরেন্দ্রকৃষ্ণের মহিষাসুরমর্দিনীর টানে আজও কদর কমেনি রেডিও চাচার
  • ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: পিতৃপক্ষের শেষ হতে চললেই পুরনো ধুলে ঝেড়ে সেজে ওঠে বাড়ির আলমারিটা। শারদোৎসবের আগে বাঙালি মন দেয় গৃহসজ্জায়। আর এই সময়ই ঘরের টেবিলে পুরনো রেডিওটির হাল হকিকত জানতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন গৃহকর্তা। কারণ খুব স্পষ্ট, মহালয়ার কাকভোরে যে ওই যন্ত্রটাই মোবাইল, টিভি সবাইকে দশ গোল দিয়ে দেয়। 

Advertisement

রেডিওতে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের জলদগম্ভীর কণ্ঠে যে শুনতে হবে কিংবদন্তির পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়া মহিষাসুর মর্দিনীর অনু্ষ্ঠান। তাই তো বছরভর ঘরের এক কোণে যে রেডিও অবহেলায় পড়ে থাকে মহালয়ার আগে সেটিই চলে যায় কাটোয়ার রেডিও চাচা সুরাত আলির কাছে। এবছরও সেই নিয়মের অন্যথা হয়নি। মহালয়ার আগে ওই বৃদ্ধের কাছে অনেকেই রেডিও নিয়ে হাজির হয়ে বলেছেন, একটু দেখে দেবেন রেডিওটা।    
মহালয়া এলেই ব্যস্ততা বেড়ে যায় সুরাত আলির। কাটোয়া শহরে অনেকেই তাঁকে ‘রেডিও চাচা’ বলে ডাকেন। এই ইন্টারনেটের যুগেও রেডিও চাচার কাছে জমা রয়েছে প্রচুর রেডিও। প্রতিবছর মহালয়ার আগে বাড়ির পুরনো রেডিওটা মেরামতি করে গেরস্থের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া যেন নিয়মে পরিণত করে ফেলেছেন ওই বৃদ্ধ।  অথচ সারা বছর ইন্টারনেট, অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ও টিভি বিনোদনের জগতে দাপটে রাজত্ব চালায়। কিন্তু মহালয়ার কাকভোরে রেডিওতে সেই কালজয়ী স্তোস্ত্র  ‘আশ্বিনের শারদ প্রাতে…’ বা পুরনো দিনের শিল্পী সুপ্রীতি ঘোষের মধুময় কণ্ঠে ‘বাজলো তোমার আলোর বেণু’ না শুনলে যে বাঙালির পুজোই শুরু হয় না।
পূর্বস্থলীর হাটসিউরির বাসিন্দা বৃদ্ধ সুরাত আলি শেখ চল্লিশ বছর ধরে কাটোয়া শহরে একটি দোকানে রেডিও সারিয়ে আসছেন। শহরের বাসিন্দা পার্থ মণ্ডলের প্রায় ষাট বছরের ইলেকট্রনিক্সের  দোকানেই  চাচা রেডিও সারান। বৃদ্ধ রেডিওর একাল, সেকাল দুই দেখেছেন। প্রতিবছরই মহালয়ার আগে সুরাত চাচার নাওয়া-খাওয়ার সময় থাকে না। তাঁর কথায়, আগে মহালয়ার অন্তত একমাস আগে থেকে রেডিও সারানোর বরাত নেওয়া বন্ধ করে দিতাম। রাত জেগে সারাতে হতো কয়েক শো রেডিও। দোকানে ভিড় লেগেই থাকত। তবে এখন আর সেদিন নেই। 
তিনি বলেন, এখন তো মোবাইলে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের ওই অনুষ্ঠানটা শোনা যায়। কিন্তু রেডিও-র মতো সেই আবেগটা তো আর মেলে না। তাই এখনও মহালয়ার আগে রেডিও সারানোর হিড়িক পড়ে যায়। এখন  এফএমএ-এর পোশাকে বেতারের পুনর্জন্ম হয়েছে ঠিকই, কিন্তু গ্রামাঞ্চলে প্রবীণদের মধ্যে রেডিও শোনার সেই চল আজও বহাল আছে।
দোকান মালিক পার্থ মণ্ডল বলেন, ওঁর (সুরাত আলি) বয়স হয়েছে ঠিকই। কিন্তু উনি রেডিওর পোকা। রেডিও সারাইয়ের এনার্জি আগের মতোই আছে। কেতুগ্রামের নিরোলের বাসিন্দা সাগর চুনারি বলেন, আমাদের পাড়ার এক  দাদুর এখনও কানে সর্বদা রেডিও থাকে। তিনি এক কানে ভালো করে শুনতে না পেলেও রেডিওর প্রতি তাঁর ভালোবাসা মুগ্ধ করে। রেডিওয় খবর শোনা এখনও পাড়ার অনেক প্রবীণ মানুষের নেশা বলা যায়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ