


গুরুগ্রাম, ১৩ জুলাই: বয়স মাত্র ২৫। প্রতিভা ছিল কিন্তু নিজের বাবার হাতেই খুন হতে হল টেনিস তারকা রাধিকা যাদবকে। রাজ্যস্তরের এই খেলোয়াড়ের খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছে তাঁর বাবা দীপক যাদব। কিন্তু কেন নিজের মেয়েকেই খুন করলেন দীপক! ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিস। প্রাথমিক কারণ যেটা জানা গিয়েছে, যে মেয়ের রোজগারের টাকায় সংসার চলার বিষয়ে প্রতিবেশী ও গ্রামবাসীদের খোঁটা, রাধিকার স্বাধীন জীবন যাপন, রিলস বানানো, এইগুলিতেই ক্ষুব্ধ ছিলেন দীপক। সেই ক্ষোভ থেকেই চরম সিদ্ধান্ত নেন তিনি। যদিও পুলিস আরও গভীরে গিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে। এর মাঝেই বিস্ফোরক দাবি করেছেন রাধিকার প্রিয় বান্ধবী হিমানশিকা সিং।
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও শেয়ার করে তিনি জানিয়েছেন, ‘ও যখন ভিডিও কলে আমাকে ফোন করত, তখনও মা-বাবাকে দেখাতে হতো কার সঙ্গে কথা বলছে। এমনকী, টেনিস অ্যাকাডেমি থেকে ওর বাড়ির দূরত্ব পনেরো মিনিটের। তারপরেও ওর বাবা-মা বলে দিত কটার মধ্যে বাড়িতে ঢুকতে হবে। রাধিকার পরিবার ছিল অত্যন্ত গোঁড়া প্রকৃতির। প্রায় সব কিছু নিয়েই ওদের সমস্যা ছিল। রাধিকা শর্টস পরতো বলে তার জন্যও ওকে কথা শুনতে হতো। ছেলেদের সঙ্গে কথা বলার জন্যও বকুনি শুনতো। সোজা কথায় নিজের শর্তে জীবন কাটানোর জন্য ওকে বারবার শাসনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। ওর রক্ষণশীল পরিবার সবসময় ভাবতো লোকে কী বলবে। আর এই সবের মধ্যে রাধিকার রীতিমতো দমবন্ধ অনুভূতি হতো। আমার প্রিয় বান্ধবী ছিল রাধিকা। ওর বাবা পাঁচটি গুলি করেছে ওকে লক্ষ্য করে। যার মধ্যে চারটে লেগেছে ওর গায়ে। সারাজীবন ওর পরিবার ওকে নিয়ন্ত্রণ করতো, সমালোচনা করতো রাধিকার। কিন্তু রাধিকা সবকিছুর মাঝেও প্রচুর পরিশ্রম করত।’
এরই সঙ্গে হিমানশিকা দাবি করেছেন রাধিকা নিজের টেনিস অ্যাকাডেমি খুলেছিল। যদিও তাঁর পাশে কখনই দাঁড়ায়নি রাধিকার বাবা-মা। নিজের মতো করে বাঁচতেই পারতো না সে। ২০১২ সাল থেকে আমাদের বন্ধুত্ব, একসঙ্গে বহু ম্যাচ খেলেছি। কিন্তু পরিবারের বারণ ছিল বলেই বোধহয় বেশি কারোর সঙ্গে মিশত না, কথা বলতো না। নিজের মেয়েকে খুন কাণ্ডে গ্রেপ্তার হয়ে আপাতত পুলিস হেফাজতে রয়েছেন রাধিকার বাবা। যদিও দীপক ছিল প্রচণ্ড মেজাজি, সেই কথা জানিয়েছেন রাধিকার মা। তিনি বলেছেন, ‘আমার স্বামী দীপক রগচটা প্রকৃতির মানুষ। একটুতেই রেগে যান। দেওর কুলদীপের সঙ্গে আমার কথা বলাতেও আপত্তি ছিল তাঁর। মেয়ের উপার্জনে সংসার চলে বলে গ্রামবাসীরা খোঁটা দেওয়ায় আগেও রাধিকাকে খুনের ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন।’