Bartaman Logo
৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ক্যানসারকে জয় করে দুঃস্থ শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ছেন দুর্গাপুরের রবীন্দ্রনাথ স্যার

‘শিক্ষকও মানুষ, ছাত্রও মানুষ, দু’জনেরই সুখ-দুঃখ আছে।’-বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘অনুবর্তন’ উপন্যাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ককে ঘিরে যে মানবিক বোধ ফুটে ওঠে, তারই যেন বাস্তব প্রতিচ্ছবি ধরা পড়ল দুর্গাপুরের সগড়ভাঙায়।

ক্যানসারকে জয় করে দুঃস্থ শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ছেন দুর্গাপুরের রবীন্দ্রনাথ স্যার
  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: ‘শিক্ষকও মানুষ, ছাত্রও মানুষ, দু’জনেরই সুখ-দুঃখ আছে।’-বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘অনুবর্তন’ উপন্যাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ককে ঘিরে যে মানবিক বোধ ফুটে ওঠে, তারই যেন বাস্তব প্রতিচ্ছবি ধরা পড়ল দুর্গাপুরের সগড়ভাঙায়। যেখানে শিক্ষক মানে শুধু ব্ল্যাকবোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে পাঠ দেওয়াই নয়; বরং অভাবের সংসার থেকে শিশুকে তুলে এনে শিক্ষা দেওয়ার কাজটিই প্রায় দু’দশক ধরে করে চলেছেন গৃহ শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ চন্দ্র। শিল্পাঞ্চলের ধোঁয়া, ধুলো আর কংক্রিটের ভিড়ে তাঁর পাঠশালাটি যেন এক আশ্চর্য আলোককেন্দ্র। শুরুটা হয়েছিল অতি সামান্য পরিসরে। সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের টিউশন পড়ানোর পাশাপাশি আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া কয়েকটি পরিবারের শিশুকে নিয়ে নিজের বাড়িতেই বিনামূল্যের পড়াশোনার ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। কোনো প্রচার নয়, প্রত্যাশা ছিল একটাই, অভাব যেন কোনো শিশুর শিক্ষার পথে অন্তরায় না হয়। তখন সঙ্গী ছিল একটি পুরনো স্কুটার। সাদা ধুতি-পাঞ্জাবি পরে সেই স্কুটারে চেপেই পাড়ায় পাড়ায় ঘুরতেন রবীন্দ্রনাথবাবু। দরিদ্র পরিবারের শিশুদের বুঝিয়ে নিজের কাছে নিয়ে আসতেন। পাঠ শেষে অনেক সময় তাঁদের নিজেই বাড়ি পৌঁছে দিতেন। কোনো পরিবারের হাঁড়িতে টান পড়লে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী খাবারের ব্যবস্থাও করতেন। কয়েকটি শিশুকে নিয়ে জ্বলা সেই ক্ষীণ প্রদীপই ক্রমে ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। বাড়িতে জায়গা না হওয়ায় একটি পরিত্যক্ত গোয়ালঘর পরিষ্কার করে সেখানে শুরু হয় নতুন অধ্যায়। প্রতিকূলতা এসেছে, জায়গা বদলেছে, প্রশাসনিক টানাপোড়েনও সামলাতে হয়েছে। কিন্তু শিক্ষার সেই ব্রত থেকে একচুলও সরে দাঁড়াননি তিনি। স্থানীয় বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় আজ সেই উদ্যোগ অনেকটাই বিস্তৃত। নিয়মিত পাঠ নেয় প্রায় ১২০জন ছাত্রছাত্রী।শুধু পুঁথিগত বিদ্যায় সীমাবদ্ধ নয় এই শিক্ষাকেন্দ্র। আঁকা, আবৃত্তি, সেলাই, কম্পিউটার, যোগাসন, বুটিকের কাজের মতো নানা সৃজনশীল প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। পাশাপাশি এলাকার প্রবীণ মানুষদের জন্য রয়েছে লেখাপড়ার ব্যবস্থা।এরপর ২০১৯ সালে আচমকাই বদলে যায় তাঁর নিজের জীবনের ছন্দ। গলায় ধরা পড়ে ক্যানসার। একাধিক অস্ত্রোপচারের পর ক্ষতিগ্রস্ত হয় স্বরযন্ত্র। কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠে ক্ষীণ, শরীরর হয় দুর্বল। তবু, পাঠশালার দরজা বন্ধ হয়নি। নিজের শারীরিক যন্ত্রণা আড়াল করেই পড়ুয়াদের সামনে বসেছেন তিনি। রবীন্দ্রনাথবাবুর কথায়, আমি এসবকে ভয় করি না। অদম্য মানসিক শক্তিই আমাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। মা সারদামণিই আমার শক্তি, তিনি পথ দেখান।

Advertisement

এদিন এক প্রাক্তন ছাত্রের মা দীপা দাস বলেন, আমার ছেলে এখন কলেজে ডিপ্লোমা করছে। আগে এখানে বাংলা পড়তে আসত। এখন সময় পেলেই নিজে পড়াতে চলে আসে।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ