সংবাদদাতা, বহরমপুর: শিক্ষক দিবসকে সামনে রেখে বহরমপুর সদর পশ্চিম চক্রের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হল। শনিবার বহরমপুরের রবীন্দ্র সদন প্রেক্ষাগৃহে চক্রের তৃতীয় বর্ষের ওই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দর্শকরা মন্ত্রমুগ্ধের মতো উপভোগ করলেন। এদিনের অনুষ্ঠানে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান আশিস মার্জিত, জেলা এডুকেশন অফিসার এষা ঘোষ, জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(প্রাথমিক) অপর্ণা মণ্ডল, বহরমপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আইজুদ্দিন মণ্ডল উপস্থিত ছিলেন।
সদর পশ্চিম চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক শুভাশিস দে বলেন, গত দু’বছরের অনুষ্ঠান পড়ুয়া ও অভিভাবকদের মনে ব্যাপক ছাপ ফেলেছিল। তাই এবার অনুষ্ঠানের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। এমন অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই খুদে পড়ুয়াদের প্রতিভার বিকাশ ঘটবে। তারা আরও বড় প্ল্যাটফর্ম পাবে।
২০২৩ সালে সদর পশ্চিম চক্রের দায়িত্ব পান শুভাশিসবাবু। তিনি চক্রের ৭৭টি স্কুলকে নিয়ে বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু করেন। এবার এই চক্রের সাতটি পঞ্চায়েত থেকে দলগতভাবে ১৪৫জন পড়ুয়া নৃত্য ও সমবেত সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল। তাদের অসাধারণ পারফরম্যান্সে রবীন্দ্র সদন প্রেক্ষাগৃহ ঘন ঘন করতালিতে মুখরিত হয়ে উঠছিল। নৃত্যে প্রথম হয়েছে হরিহাসমাটি অঞ্চল। সমবেত সঙ্গীতে প্রথম হয়েছে মণীন্দ্রনগর অঞ্চল। দুই বিভাগের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারীকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। বাকিদেরও সান্ত্বনা পুরস্কার দেওয়া হয়। বিভিন্ন স্কুলের একঝাঁক শিক্ষিকার দলগত নৃত্যও প্রশংসা কুড়িয়েছে।
এদিনের অনুষ্ঠান থেকে পাঁচটি স্কুলকে অনন্য বিদ্যালয় স্বীকৃতি পুরস্কার দেওয়া হয়। এই তালিকায় রয়েছে বৈরগাছি জিএসএফপি, মহাকালী পাঠশালা, বাণীনাথপুর, ল্যাংড়াবিবি হাতা কলোনি ও নওদা পানুড় জুনিয়র বেসিক স্কুল। চক্রের ৪২১জন শিক্ষক-শিক্ষিকার হাতে স্মারক সম্মান তুলে দেওয়া হয়। আটজনকে কৃতী শিক্ষক পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১নম্বর মণীন্দ্রনগর জিএসএফপি স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিভাস মণ্ডল বলেন, এসআই স্যার যেদিন থেকে সদর পশ্চিম চক্রের দায়িত্ব নিয়েছেন, সেদিন থেকেই চক্রের সমস্ত স্কুলের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের উন্নতি ঘটছে। পড়ুয়াদের মধ্যে প্রচুর পজিটিভ এনার্জি কাজ করছে। এই আবহ টিকিয়ে রাখা আমাদের দায়িত্ব। নিমতলা স্কুলের পড়ুয়া গোপা পাল, হাতিনগরের শ্রেয়া চৌধুরী, মণীন্দ্রনগরের অর্চিতা দত্ত জানাল, এবার তারা মাত্র দু’সপ্তাহের প্রস্তুতি নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিল।