সংবাদদাতা, বোলপুর: বিশ্বভারতীর ওড়িয়া বিভাগে আদিবাসী কল্যাণ প্রকল্পে ২ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকা খরচ করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, এই প্রকল্পের টাকায় কেনা বিভিন্ন জিনিসের কোনো হিসাব নেই। সম্প্রতি বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবিতে উপাচার্যের কাছে চিঠি দিয়েছেন ওই বিভাগেরই এক অধ্যাপক। যদিও এই নিয়ে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ভারত সরকারের আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রকের টাকায় ওড়িয়া বিভাগে ‘সেন্টার অব এক্সেলেন্স’ প্রকল্প চালানো হয়। প্রকল্পের দায়িত্বে ছিলেন ওই বিভাগের একজন সিনিয়র অধ্যাপিকা। আরটিআই-এর মাধ্যমে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ৫ এপ্রিলের হিসাবপত্রে প্রকল্পের ২কোটি ৯৩লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানানো হয়। অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ওই অধ্যাপিকা অবসর নিয়েছেন। ওই বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব অন্য অধ্যাপকের হাতে তুলে দেন। কিন্তু, প্রকল্পের টাকায় কেনা স্থায়ী জিনিসপত্রের কোনো হিসাব বা তালিকা তিনি জমা দেননি। সেগুলি নতুন বিভাগীয় প্রধানের হাতেও তুলে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। ভবিষ্যতে ওই প্রকল্পের জিনিসপত্রের হিসাব নিয়ে কোনো অনিয়ম, গরমিল বা জালিয়াতি ধরা পড়লে বর্তমান বিভাগীয় প্রধান ও অধ্যাপকদের যেন দায়ী করা না হয়। চিঠিতে সেই আবেদনও করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে ওড়িয়া বিভাগের অধ্যাপকদের বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের লিখিত নোটে বলা হয়েছে, প্রকল্পের টাকায় কেনা জিনিসপত্র সম্পর্কে বিভাগে পরিষ্কার তথ্য নেই। এরপর বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বিভাগের এক অধ্যাপক উপাচার্যের কাছে ওই চিঠি দেন। চিঠিতে প্রকল্পের টাকায় কেনা জিনিসপত্রের হিসাব যাচাই করে দেখার জন্য বলা হয়। অভিযোগ, প্রকল্পের টাকায় কেনা এসি, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রজেক্টর ও ক্যামেরার মতো কিছু জিনিস ওড়িয়া বিভাগেই নেই। এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি বিহার, অসম, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার আদিবাসীদের উন্নয়নে কাজ করা। কিন্তু, প্রকল্পের কাজ মূলত ওড়িশাতেই সীমাবদ্ধ ছিল বলে অভিযোগ।
যদিও ওড়িয়া বিভাগের প্রাক্তন সিনিয়র অধ্যাপিকা সবিতা প্রধান সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এই প্রকল্পের কাজ ২০১৯ সালে শেষ হয়েছে। ২ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকার কথা বলা হলেও প্রথম পর্যায়ে আমরা ১কোটি ১০লক্ষ টাকা পেয়ে কাজ সম্পূর্ণ করেছি। সেই কাজের অডিট হয়েছে। তার এতদিন পর ব্যক্তিগত ঈর্ষা থেকে আমাকে অবমাননা করার জন্য এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে। যদি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকত তাহলে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে অনেক আগেই ব্যবস্থা নিতে পারত। এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।