


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অফেন্স ইজ দ্য বেস্ট ডিফেন্স। এটাই মোহন বাগান কোচ সের্গিও লোবেরার ফুটবল দর্শন। শক্তিশালী আপফ্রন্ট কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষের উপর রোলার চালাতে পছন্দ করেন স্প্যানিশ কোচ। কিন্তু পরিকল্পনা ও বাস্তবের ফারাক বিস্তর। আইএসএলে শেষ ৩ ম্যাচে জয়হীন মোহন বাগান। গোলের সংখ্যা মাত্র ১। ম্যাকলারেন আটকে যেতেই জারিজুরি শেষ। এমনকি স্প্যানিশ কোচের দল নির্বাচন নিয়েও একগাদা প্রশ্ন উঠছে। ১২ এপ্রিল যুবভারতীতে কামিংসদের প্রতিপক্ষ পাঞ্জাব এফসি। প্রবল চাপ থেকে মুক্তি পেতে জিততেই হবে। অন্যথায় চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে আরও দূরে সরবে সাধের সবুজ-মেরুন টাইটানিক।
৪-২-৩-১ ফর্মেশন লোবেরার প্রিয়। নির্দিষ্ট প্যাটার্নে দল সাজান হাই-প্রোফাইল কোচ। এতে ‘নম্বর টেন’ অর্থাৎ প্লে-মেকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে হুগো বোমাস, গ্রেগ স্টুয়ার্টের মতো বিদেশি মোহন বাগানের মাঝমাঠ সামলেছেন। এখন সেই ঘাটতি মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন লোবেরা। জামশেদপুরের বিরুদ্ধে ব্রাজিলিয়ান রবসনকে ওই জায়গায় খেলানো হয়। বাংলাদেশে বেশিরভাগ ম্যাচই লেফট উইংয়ে খেলেছেন ব্রাজিলিয়ান। তিনি কখনোই প্লে-মেকার নন। ফিটনেসের সমস্যাও প্রবল। অথচ বেঞ্চে বসে সাহালের জং পড়ার জোগাড়। যাই হোক, দ্বিতীয়ার্ধে রবসনকে তুলে দিমিকে নামান লোবেরা। কিন্তু অজি ফুটবলার অতীতের ছায়া। একা টানার ক্ষমতা নেই। সহজ সুযোগও অবিশ্বাস্যভাবে মিস করলেন। তার উপর লেফট উইং হাফে ঠেলে দেওয়া হল পেত্রাতোসকে। হয়তো এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন জামশেদপুর কোচ আওয়েন কোয়েল। টেকনিক্যাল লড়াইতে টেক্কা দিলেন লোবেরাকে। দুই উইংয়ের ফ্রি স্পেসে সানান ও মেসি বৌলি ছুটতেই দিশাহারা মোহন বাগান রক্ষণ। দিমি একেবারেই ট্র্যাকব্যাক করেন না। ফলে চাপ বাড়ল শুভাশিসদের উপর। অল-আউট আক্রমণে আসা এজেদের চাপে তখন মোহন বাগান রক্ষণে ত্রাহি ত্রাহি রব। ছিদ্র তৈরি হতেই কোনও ভুল করেনি ইস্পাতনগরীর ফ্র্যাঞ্চাইজি দল। মেসি বৌলির সেন্টারে ঋত্বিক দাস দেখেশুনে জাল কাঁপালেন। অভিষেক, আলড্রেডরা স্রেফ হাওয়া খাচ্ছেন তখন। লোবেরার পরিকল্পনার মতো রক্ষণের ফাঁপা পাঁচিলও ভেঙে তছনচ।