Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ময়ূরঝর্না এলিফ্যান্ট রিজার্ভের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন, মুখে কুলুপ প্রশাসনের

জঙ্গলমহলের কেন্দ্রবিন্দু ঝাড়গ্রাম এলাকায় হাতি সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই ময়ূরঝর্না এলিফ্যান্ট রিজার্ভের বাস্তবায়নের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে এলাকার বাসিন্দারা।

ময়ূরঝর্না এলিফ্যান্ট রিজার্ভের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন, মুখে কুলুপ প্রশাসনের
  • ২৬ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: জঙ্গলমহলের কেন্দ্রবিন্দু ঝাড়গ্রাম এলাকায় হাতি সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই ময়ূরঝর্না এলিফ্যান্ট রিজার্ভের বাস্তবায়নের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে এলাকার বাসিন্দারা। বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে ঝাড়গ্রামের বিজেপির বিধায়ক এই ময়ূরঝর্না এলিফ্যান্ট রিজার্ভের বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কয়েকদিন আগে হাতির হামলায় এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় গোপীবল্লভপুরের বিজেপির বিধায়কও এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে বক্তব্য রেখেছিলেন। অথচ গত রবিবার ঝাড়গ্রামের বৃন্দাবনপুর প্রাথমিক স্কুল প্রাঙ্গণে বনবিভাগের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে হাতি নিয়ে সচেতনতামূলক একটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এই বিধায়করা ময়ূরঝর্না নিয়ে একটি কথাও উচ্চারণ করেননি। এই ঘটনায় মর্মাহত ঝাড়গ্রামের বাসিন্দারা। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই এই নিয়ে আক্ষেপ করে পোস্ট করেছেন। অবশ্য ময়ূরঝর্না এলিফ্যান্ট রিজার্ভ বাস্তবায়ন নিয়ে এর আগে ‘বর্তমান’ পত্রিকায় একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

Advertisement

ময়ূরঝর্না এলিফ্যান্ট রিজার্ভ আসলে কী? বাম আমলে ২০০২ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই রিজার্ভের কথা ঘোষণা করেন। ওয়েবসাইটেও এই রিজার্ভ সম্পর্কে তথ্য জ্বলজ্বল করছে। তাতে বলা হয়েছে, মেদিনীপুর পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রাম এই চারটি ডিভিশনের ৪১৪.১৬ বর্গ কিলোমিটার বনাঞ্চল সংলগ্ন ও পার্শ্ববর্তী ১৪৩৬ বর্গ কিলোমিটারজুড়ে এই রিজার্ভটি রয়েছে। কুনার হেমব্রম ঝাড়গ্রামের বিজেপি সাংসদ থাকাকালীন লোকসভা অধিবেশনে জঙ্গলমহলের হাতি সমস্যা নিয়ে লোকসভায় কেন্দ্রীয় পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিদর্শন মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবকে এই রিজার্ভ কেন বাস্তবায়িত হয়নি তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। প্রত্যুত্তরে মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব পশ্চিমবঙ্গ বন সংরক্ষণ ও বন্যপ্রাণ (হেডকোয়ার্টার) আধিকারিক শৈলেশ এস আনন্দের কেন্দ্রকে পাঠানো চিঠি দেখিয়ে বলেন, সেখানে ময়ূরঝর্না এলিফ্যান্ট রিজার্ভের অস্তিত্ব রয়েছে। কিন্তু এলাকাবাসীর প্রশ্ন, যেখানে রাজ্য প্রশাসন সরকারিভাবে এই রিজার্ভের অস্তিত্বের কথা স্বীকার করেছে, তাহলে বিভাগীয় প্রশাসনের আধিকারিকরা তা নিয়ে মুখ খুলছেন না কেন? রাজ্যে সে সময় বামেরা ও কেন্দ্রে কংগ্রেস ক্ষমতায় ছিল। তাহলে তৃণমূল সরকার এত বছর বামেদের দায় কেন কাঁধে নিয়েছিল? বিগত কয়েক বছরে হাতির হানায় ঝাড়গ্রাম এলাকায় কয়েকশো মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। অন্যান্য বহু ক্ষয়ক্ষতিও রয়েছে। ট্রেন দুর্ঘটনা ও অন্যান্য কারণে অনেক হাতিরও মৃত্যু ঘটেছে। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, হাতি সংরক্ষণের জন্য এই প্রকল্প যতক্ষণ না বাস্তবায়িত হচ্ছে, ততক্ষণ হাতি সমস্যার অন্য কোনো স্থায়ী সমাধানের পথ নেই। রাজ্যে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ঝাড়গ্রামবাসী অনেকেই মনে করছেন এবারে হয়তো এই রিজার্ভটি বাস্তবায়িত হবে। ঝাড়গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, নতুন সরকারের হাত ধরে ময়ূরঝর্না এলিফ্যান্ট রিজার্ভ বাস্তবায়িত হোক। তবেই মানুষ ও হাতি সুরক্ষিত থাকবে। আর সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ঝাড়গ্রাম সহ গোটা জঙ্গলমহল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ