ওয়াশিংটন: ১৯৬৩ সালের ২২ নভেম্বর। আমেরিকার ডালাস শহরে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গাড়িতে চেপে চলেছেন তত্কালীন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি। তাঁকে দেখতে রাস্তার দু’পাশে হাজার মানুষের ভিড়। হঠাত্ই প্রেসিডেন্টের মাথা ফুঁড়ে দিল গুলি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই সব শেষ। খুনি হিসেবে ধরা পড়লেন প্রাক্তন নৌসেনা লি হার্ভি অসওয়াল্ড। মার্কিন প্রেসিডেন্ট খুন! হইচই শুরু হয়েছিল বিশ্বজুড়ে। কিন্তু সত্যিই কি কেনেডিকে লক্ষ্য করে হঠাত্ গুলি চালিয়েছিলেন অসওয়াল্ড? হামলার বিষয়ে সত্যিই তথ্য ছিল না মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ’র কাছে? সম্প্রতি কেনেডি খুন সংক্রান্ত গোপন নথি প্রকাশ্যে আনার নির্দেশ দিয়েছিলেন বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রায় ৮০ হাজার পাতার সেই নথি প্রকাশ্যে আসতেই প্রশ্নের মুখে পড়েছে সিআইএ’র ভূমিকা। আর ঘটনাচক্রে সেই সব নথিতে উঠে এসেছে কলকাতা শহরের নাম!
কেনেডি খুনের পর তদন্ত কমিশন জানিয়েছিল, অসওয়াল্ড একাই খুনি। আশ্চর্যজনকভাবে জেলে যাওয়ার পথে তিনিও খুন হয়ে যান। ওই গোপন নথিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, অসওয়াল্ড ছাড়াও আরও একজন খুনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। ব্যালিস্টিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন, গুলি চলেছিল কেনেডির গাড়ির সামনের দিকের একটি টিলা থেকে। অথচ অসওয়াল্ড সেই সময় একটি বাড়ির ছ’তলায় ছিলেন। নথিতে আরও বলা হয়েছে, অসওয়াল্ড যে মেক্সিকো সিটির সোভিয়েত ও কিউবা দূতাবাসে গিয়েছিলেন, তা নিয়ে অনেক আগেই সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিলেন এক সিআইএ আধিকারিক। ছয়ের দশকে কোন কোন শহরে সিআইএর গোপন আস্তানা ছিল, তার বিস্তারিত তথ্য নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, ওই সময়ে কলকাতা শহরেও (তত্কালীন ক্যালকাটা) রীতিমতো ঘাঁটি গেড়েছিলেন মার্কিন গুপ্তচররা। কলকাতা থেকেই সম্ভবত দক্ষিণ এশিয়ায় কার্যকলাপ পরিচালনা করতেন তাঁরা। এছাড়া রাজধানী দিল্লিতেও তাদের উপস্থিতির কথা উল্লেখ রয়েছে নথিতে।
কেনেডিকে খুনের পিছনে সিআইএর হাত রয়েছে, এই ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ আমেরিকার বহু মানুষ এখনও বিশ্বাস করেন। নথিতে অবশ্য সিআইএয়ের দিকে সরাসরি আঙুল তোলা হয়নি। তবে কেনেডিকে খুন করার চক্রান্ত যে চলছে, সেই তথ্য মার্কিন গুপ্তচরদের কাছে ছিল। ১৯৬২ সাল থেকে ১৯৬৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত মেক্সিকো সিটির সোভিয়েত ও কিউবার দূতাবাসের ফোন ট্যাপ করেও বিভিন্ন তথ্য মিলেছিল। কিন্তু কোনও অজ্ঞাত কারণে সমস্ত তথ্যই উপেক্ষা করা হয়। কেনেডির খুনের পর গ্যারি আন্ডারহিল নামে এক সিআইএ এজেন্ট তাঁর বন্ধুর কাছে অভিযোগ করেছিলেন, এই ঘটনার জন্য গুপ্তচর সংস্থাই দায়ী। অসওয়াল্ডকে ফাঁসানো হচ্ছে বলেও দাবি করেছিলেন ওই এজেন্ট। মাসখানেক পর তাঁরও গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধার হয়। মুখ খোলার জন্য কি শাস্তি পেতে হয়েছিল তাঁকে?