নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: কৃষ্ণনগরে শিশু খুনে ধৃত দুই নবম শ্রেণির ছাত্রীর মধ্যে একজন ডায়েরিতে লিখেছিল— ‘হস্টেল বন্ধ করে দেব।’ সেই কাজ করতে গিয়ে যে কোনো অপরাধ করতেই রাজি ছিল তারা। প্রথম শ্রেণির ছাত্রী সঞ্জনাকে খুনের পর অভিযুক্তদের সেই ইচ্ছাই এবার পূরণ হতে চলেছে। কৃষ্ণনগর কুইন্স উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রীকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় সেই স্কুলের আবাসনের ভবিষ্যত ঘিরে জল্পনা শুরু হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, বিতর্কের জেরে বন্ধ হয়ে যেতে বসেছে এই আবাসন। সোমবার সপ্তাহের প্রথম দিন এই স্কুলে ছাত্রীর উপস্থিতি একদম তলানিতে এসে ঠেকে। এই স্কুলে সেকেন্ডারিতে মোট ছাত্রী সংখ্যা ৩১০ জন। সোমবার স্কুলে উপস্থিত ছিল মাত্র ৬৭ জন। হাতে গোনা এই ক’জন ছাত্রীকে নিয়ে কোনোরকমে স্কুল চলে। শহরবাসীর দাবি, নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জেরে এদিন অনেকেই স্কুলে আসেনি।
স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা তথা আবাসনের সুপার তন্বী সরকার বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই আমি স্কুল খুলেছি। ওই ঘটনার জেরে স্কুলে স্টুডেন্ট কম এসেছে। আপাতত আবাসনে কোনো আবাসিক নেই। পুলিশের পক্ষ থেকে সবাইকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্টুডেন্টদের মধ্যেও আতঙ্ক রয়েছে। শুনছি হস্টেল বন্ধ হয়ে যাবে। তবে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত হস্টেল চলতে পারে।’ উল্লেখ্য, আবাসন কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আবাসন চালানোর আবেদন করা হয়েছে। কারণ, আপাতত আবাসনে কেউ না থাকলেও বিষয়টি থিতিয়ে তারা ফিরে আসবে। তাছাড়া বর্তমানে সেখানে যে ৩৫ জন আবাসিক রয়েছে, তাদের অনেকের অভিভাবকরা বাইরের রাজ্যে বা দূরে থাকেন। বছরের মাঝখানে হঠাৎ এইভাবে বন্ধ করে দিলে তাদের সন্তানদের পড়াশোনায় সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
স্কুল কর্তৃপক্ষের কথায়, ‘সোশ্যাল মিডিয়া সহ বিভিন্ন জায়গায় নানা রকম কথা হচ্ছে। তাতে আমাদের পরিবারের লোকজনও আঘাত পাচ্ছে। বিষয়গুলো আমরা উপর মহলে জানিয়েছি। তাঁরাই তখন আমাদের হস্টেল বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন।’
উল্লেখ্য, শনিবার সকালে কৃষ্ণনগর কুইন্স উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী আবাসনের বাথরুমে প্রথম শ্রেণির ছাত্রী সঞ্জনা মণ্ডলের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তাঁকে প্রথমে জল ডুবিয়ে ও তারপর দু’ হাতের শিরা কেটে খুন করে নবম শ্রেণির দুই ছাত্রী। স্কুল ভবনের উপরেই আবাসন রয়েছে। সেখানেই একসঙ্গে থাকত ৩৫ জন আবাসিক। যাদের অধিকাংশের অভিভাবকরা বাইরে থাকেন।
এই পরিস্থিতিতে ধৃত দুই নবম শ্রেণির ছাত্রীর মধ্যে একজন দেড় বছর ধরে ও অপরজন পাঁচ মাস ধরে আবাসনে থাকছিল। এক বিশাল হলঘরে সকলে মিলেই তারা থাকত। শুক্রবার রাতে সঞ্জনা বাথরুমে যাওয়ার সময় নবম শ্রেণির দুই দিদিকে নিয়ে যায়। তা দেখেছিল এক আবাসিক। সেই আবাসিকের থেকে বিষয়টি শোনার পর নবম শ্রেণির দুই ছাত্রীর উপর পুলিশের সন্দেহ গিয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় জেরার পর অবশেষে শনিবার গভীর রাতে তারা খুনের বিষয়টি স্বীকার করে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ধৃতরা আবাসন পাকাপাকিভাবে বন্ধ করতে চেয়েছিল। তাদের সেই ইচ্ছাই এবার পূরণ হতে চলেছে।