সংবাদদাতা, আরামবাগ: আরামবাগ মহকুমার প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজো গুলির মধ্যে অন্যতম আরামবাগের খামারবেড় গ্রামের ভট্টাচার্য বাড়ির পুজো। পরিবারের সদস্যদের কথায়, প্রায় ৪০০ বছর ধরে বংশানুক্রমে ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেবী পুজিত হয়ে আসছেন। এই পুজো ঘিরে গ্রামের মানুষের মধ্যে আবেগ কাজ করে। এই বংশের উত্তরসূরী পীযূষ ভট্টাচার্য বলেন, শুনেছি স্বপ্নাদেশে এই পুজো প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। সেই রীতি মেনে পুজো হয়ে আসছে। নিয়ম মেনে, জন্মাষ্টমীর দিন কাঠামোয় পুজো দিয়ে মূর্তি তৈরির কাজ শুরু হয়। ভট্টাচার্য বাড়ির প্রতিমা অন্যান্য প্রতিমার থেকে একটু আলাদা। এখানে প্রতিমা চতুর্ভুজা। তাঁদের দারি, বেদ অনুসরণ করেই প্রতিমা চতুর্ভুজা। ওই পুজোয় বলিপ্রথা চালু আছে। তবে অষ্টমীর পুজোয় একটি কুচকুচে কালো পাঁঠা বলি দেওয়ার রীতি আছে।
পরিবারের সদস্যদের কথায়, মহালয়ার পরের দিন থেকে পরিবারের মন্দিরে বসে চলে রামায়ণ পাঠ, চণ্ডীপাঠ ও নারায়ণের তুলসীদান জপ। এছাড়াও পরিবারের সদস্যরা প্রতিমার সামনে ক্ষমা প্রার্থনার চেয়ে নাক খত দেয়। প্রথা অনুযায়ী দশমীর দিন সন্ধ্যায় প্রতিমা নিরাঞ্জন হয়। পরিবারের সদস্যরা কর্মসূত্রে বাইরে চলে গেলেও তাঁরা দশদিন গ্রামের বাড়ির পুজোয় অংশ নেন। ওই পুজো ঘিরে শুধু গ্রামবাসীরা নন আরামবাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় জমান। পুজোর ক’দিন থাকে দেদার খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা। পরিবারের সদস্য পীযূষ ভট্টাচার্য বলেন, গ্রামের মানুষ এই পুজোকে
তাঁদের নিজের বলে মনে করে উৎসবে মেতে ওঠেন। -নিজস্ব চিত্র



