


দোহা: ইরানের হামলায় নাভিশ্বাস প্রতিবেশী আরব উপসাগরীয় দেশগুলির। ‘গ্যাস হাব’ বলে পরিচিত কাতারের লিক্যুইডিফায়েড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি ক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ ব্যাহত। যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ধাক্কায় বার্ষিক রাজস্ব ক্ষতির আনুমানিক পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার। একথা জানিয়েছেন কাতার এনার্জির সিইও তথা সেদেশের জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী সাদ-আল কাবি। ঘটনাচক্রে, ভারতে প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের ২০ শতাংশই আসে কাতার থেকে। স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বের বহু দেশের মতো বর্তমান পরিস্থিতির প্রভাব পড়বে ভারতেও। তবে এই ধাক্কা যে ক্ষণস্থায়ী নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি তা কাতারের এই মন্ত্রীর কথাতেই স্পষ্ট। কাবির দাবি, মেরামতির কাজ চালাতে গিয়ে বছরে ১ কোটি ২৮ লক্ষ টন এলএনজি উৎপাদন ব্যাহত হবে। মেরামতির কাজ চালিয়ে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরাতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লেগে যাবে। এর ফলে দীর্ঘ সময়ের জন্য বিঘ্নিত হতে পারে ইউরোপ এবং ভারত ও চীন সহ এশিয়ার দেশগুলিতে সরবরাহ। গত কয়েকদিন ধরে ইরানের মিসাইল ও ড্রোন হামলায় কাতারের ১৪টি এলএনজি কেন্দ্রের মধ্যে দুটি ক্ষতিগ্রস্ত। এরমধ্যে রাস লাফানে সেদেশের বৃহত্তম এলএনজি প্লান্ট। সেখানে সহযোগী হিসাবে কাজ করে মার্কিন সংস্থা এক্সনমোবিল। দ্বিতীয় ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রের সহযোগী সংস্থা সেল। এটিতে সারাইয়ের কাজ শেষ হতে এক বছর সময় লেগে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন কাতারের মন্ত্রী। ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব বলছে, কাতারের কনডেনসেট রপ্তানি ২৪ শতাংশ হ্রাস পাবে। এলপিজি নিম্নমুখী হবে ১৩ শতাংশ। হিলিয়াম উৎপাদন কমবে ১৪ শতাংশ, নেপথা ও সালফার নিম্নমুখী হবে ৬ শতাংশ। ধাক্কা আসবে ভারতের রেস্তরাঁয় ব্যবহৃত এলপিজি থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ উৎপাদনের কাজে প্রয়োজনীয় হিলিয়ামে। কাবি জানিয়েছেন, বাধ্য হয়ে বহু দেশে রপ্তানির দীর্ঘমেয়াদি বরাত বন্ধ করার কথা ঘোষণা করতে হতে পারে।