ওয়াশিংটন: বন্দি বিনিময়ের মাঝে ইউক্রেনে নাগাড়ে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে রাশিয়া। রবিবার রাতেও কিয়েভ সহ একাধিক শহরের বুকে আছড়ে পড়ে ৩৫৫টি রুশ ড্রোন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইউক্রেনে এটাই রাশিয়ার সবচেয়ে বড় হামলা বলে মনে করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ‘বন্ধু’ ভ্লাদিমির পুতিনের উপর আর ভরসা রাখতে পারছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার রুশ প্রেসিডেন্টকে ‘বদ্ধ উন্মাদ’ বলে তোপ দাগলেন তিনি। সেইসঙ্গে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, গোটা ইউক্রেন দখল করতে চাইলে রাশিয়ার পতন নিশ্চিত! এরইমধ্যে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পুতিনকে খুনের চেষ্টার অভিযোগ তুললেন এক রুশ কমান্ডার। রুশ সংবাদমাধ্যম আরবিসিকে ইয়ুরি দাশকিন নামে ওই কমান্ডার বলেছেন, ২০ মে কুর্স্কে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার নিশানায় ছিল পুতিনের হেলিকপ্টার। সময়মতো ড্রোনগুলিকে চিহ্নিত করে রুশ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। পুতিনের হেলিকপ্টার ওই এলাকা অতিক্রম করার আগে প্রায় ৪৬টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়। একইসঙ্গে তাঁর দাবি, ২০ থেকে ২২ মের মধ্যে কমপক্ষে ১ হাজার ১৭০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করা হয়।
দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় বসে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছেন ট্রাম্প। কিন্তু সাফল্য আসেনি। সম্প্রতি ইস্তানবুলে মুখোমুখি আলোচনায় বসেছিলেন রুশ ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিরা। সেখানে বন্দি বিনিময় নিয়ে সহমত হয় দু’পক্ষ। কিন্তু যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। কথামতো শুক্রবার থেকে বন্দি বিনিময় প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাশিয়া- ইউক্রেন। তারমধ্যেই কিয়েভে লাগাতার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ক্রেমলিন। পুতিনের এই মনোভাবে বেজায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প। রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট কটাক্ষের সুরে বলেছেন, ‘পুতিনের সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুবই ভালো। কিন্তু ওঁর কিছু একটা হয়েছে। পুতিনকে অনেকদিন ধরে চিনি। উনি বদ্ধ উন্মাদ হয়ে গিয়েছেন। শহরে রকেট হামলা চালিয়ে মানুষ মারছেন। এটা আমার পছন্দ নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘গোটা ইউক্রেন দখল করতে চাইছেন পুতিন। মনে হয় সেটাই ঘটতে চলেছে। তবে পুতিন এটা করলে তা হবে রাশিয়ার পতনের কারণ।’ রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের এই আবহের মধ্যেই অবশ্য গাজায় ইজরায়েল-হামাস সংঘর্ষের অবসানে ইতিবাচক খবর মিলেছে। গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে বিশেষ মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের দেওয়া প্রস্তাবগুলি হামাস নেতৃত্ব মেনে নিয়েছে। প্যালেস্তাইনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই নয়া প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০ ইজরায়েলি পণবন্দিকে মুক্তি দেবে হামাস। তার বদলে গাজা থেকে ইজরায়েলের বাহিনী আংশিকভাবে প্রত্যাহার করা হবে ও ৭০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হবে।