


সংবাদদাতা, পুরুলিয়া ও মানবাজার: রামনবমীর শোভাযাত্রায় পুরুলিয়া শহরজুড়ে কার্যত ডিজের তাণ্ডব চলল। লরির উপর বিশালাকার সাউন্ড বক্সের আওয়াজে শহরবাসীর কান ঝালাপালা হওয়ার জোগাড়। নির্বাচনের আগে রামনবমীতে ভক্তদের সঙ্গে মিশে জনসংযোগ সারলেন বিভিন্ন দলের প্রার্থী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলের নেতারা।
এদিন গোশালা মোড় সহ শহরের একাধিক জায়গা থেকে বিশালাকার ডিজে নিয়ে শোভাযাত্রা শুরু হয়। ভিন রাজ্য থেকেও ডিজে এসেছিল। দলমত নির্বিশেষে কয়েক হাজার মানুষ শোভাযাত্রায় পা মেলায়। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক নেতারাও শোভাযাত্রায় উপস্থিত থেকে জনসংযোগ সারেন। বলরামপুরের বিজেপি প্রার্থী বলেন,এবার সাধারণ মানুষের মধ্যে রামনবমীকে ঘিরে বাড়তি উৎসাহ ছিল। সেই সঙ্গে ডিজেও গতবারের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। প্রতিবারের মতো এবারও শোভাযাত্রায় ছিলাম।
এদিন বিজেপির পুরুলিয়া জেলার একাধিক প্রার্থীকে শহরের শোভাযাত্রায় উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। পুরুলিয়ার বিজেপি প্রার্থী সুদীপ মুখোপাধ্যায়, বলরামপুরের বিজেপি প্রার্থী জলধর মাহাত সহ জেলা বিজেপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অন্য একটি শোভাযাত্রায় পুরুলিয়া বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়ও উপস্থিত ছিলেন। সুজয়বাবু বলেন, রামনবমীতে হিন্দু হিসাবেই উপস্থিত ছিলাম। রামনবমীতে আপামর হিন্দু অংশগ্রহণ করেন। শোভাযাত্রার উদ্যোক্তাদের সাধ্যমতো পাশে থাকার চেষ্টা করা হয়েছে। ২০১৯ সাল থেকেই রামনবমীর শোভাযাত্রায় উপস্থিত থাকি। অনেকেই এসে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। পুরুলিয়া শহর ছাড়াও জেলার অনান্য প্রান্তেও এদিন তৃণমূল ও বিজেপি প্রার্থীরা রামনবমীর শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন। বরাবাজারে শোভাযাত্রায় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করে। ওই শোভাযাত্রায় রাজনীতি দূরে রেখে একেই সঙ্গে হাঁটতে দেখা যায় তৃণমূল ও বিজেপি নেতৃত্বকেও। বান্দোয়ান বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী রাজীবলোচন সোরেন শোভাযাত্রায় অংশ নেন। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য তৃণমূলের মহিলা সহ-সভানেত্রী সুমিতা সিংহ মল্ল, তৃণমূলের বরাবাজার ব্লক সভাপতি বিশ্বজিৎ মাহাত প্রমুখ।
একই মিছিলে বিজেপির বান্দোয়ান বিধানসভার মণ্ডল-২ সভাপতি জনার্দন সিংহ মোদককে দেখা যায়। ভোটের আগে রাজনৈতিক বিভাজন ভুলে একসঙ্গে এই অংশগ্রহণ সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছে। শোভাযাত্রায় ধরা পড়ে অন্য এক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত। মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্যোগে পথচলতি ভক্তদের শরবত বিলির ব্যবস্থা করা হয়।
রাজীববাবু বলেন, এখানে আমি টিএমসি, উনি বিজেপি এরকম কোনো ব্যাপার নেই। ঈশ্বর সবারই। রাজনীতি আলাদা হতে পারে, এখানকার সংস্কৃতি অন্যরকম। আমরা সব সময় একজন আরেকজনের পাশে দাঁড়াই। জনার্দনবাবু বলেন, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ থেকে প্রতিবছরই বরাবাজারে রামনবমী উপলক্ষ্যে শোভাযাত্রা বের করে। তাতে সর্বধর্মের মানুষ যোগদান করে। এখানে কোনো রাজনীতির বিভেদ নেই।