রঞ্জুগোপাল মুখোপাধ্যায়, বাঁকুড়া: পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম রেলপথের কাজ শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে। ওই রেললাইন বাঁকুড়া জেলার রানিবাঁধ ব্লক হয়ে বেলপাহাড়ীতে গিয়ে ঢুকবে। ফলে বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের যোগাযোগ পরিকাঠামোর উন্নতি হবে। জঙ্গলমহলের সুতান, ঝিলিমিলি এলাকায় পর্যটনকে ঢেলে সাজার উদ্যোগ নিয়েছে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন। নতুন নতুন রিসর্ট, হোম স্টে তৈরি করা হবে। বাঁকুড়ার জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত বলেন, প্রস্তাবিত রেলপথগুলির মধ্যে পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম ভায়া রানিবাঁধ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। সম্প্রতি আমরা ছেন্দাপাথর গিয়েছিলাম। সেখানে একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে বেশ কয়েকবিঘা সরকারি জমি রয়েছে। ওই জমি স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের হস্তান্তর করতে রাজি আছে। সেখানে পর্যটকদের থাকার কোনো ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব রেলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আদ্রা-খড়্গপুর শাখা বাঁকুড়ার উপর দিয়ে গিয়েছে। বাঁকুড়া-মশাগ্রাম ও বিষ্ণুপুর-জয়রামবাটি রেলপথেও কিছু ট্রেন চলে। এছাড়া মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা পরিবহণের জন্য রানিগঞ্জ থেকে গঙ্গাজলঘাটির দুর্লভপুর পর্যন্ত রেল লাইন রয়েছে। পাশাপাশি বিষ্ণুপুর-তারকেশ্বর, ছাতনা-মুকুটমণিপুর, বেলিয়াতোড়-দুর্গাপুর প্রকল্প সম্পূর্ণ হলে জেলাবাসীর অনেক সুবিধা হবে। তবে আপাতত পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম রেলপথ নিয়ে দপ্তর বেশি আগ্রহী বলে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
পুরুলিয়া জেলাকে ঝাড়গ্রামের সঙ্গে রেলপথে যুক্ত করার ক্ষেত্রে বাঁকুড়ার রানিবাঁধ ব্লকের উপর দিয়ে লাইন পাততে হবে। রানিবাঁধের যে অংশ দিয়ে প্রস্তাবিত ওই লাইন যাওয়ার কথা, সেই এলাকা পর্যটকদের কাছে বরাবর আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকে। সুতানের জঙ্গল বাঁকুড়ার অ্যামাজন ফরেস্ট হিসাবে পরিচিত। সেখানকার বন বাংলোয় থাকার জন্য পর্যটকদের লাইন পড়ে যায়। বেসরকারি উদ্যোগে সুতান, ঝিলিমিলি সহ লাগোয়া এলাকায় একাধিক লজ, হোটেল, রিসর্ট তৈরি হয়েছে। আগামী দিনে সেখানে যুব আবাস বা সরকারি রিসর্ট তৈরির সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে। লাগোয়া মুকুটমণিপুরে যুব আবাস ও সরকারি-বেসরকারি লজ, হোটেল, বাংলো রয়েছে। তৃণমূল জমানায় শুশুনিয়া পাহাড়, মুকুটমণিপুর জলাধার, সুতান, ঝিলিমিলি ও ঝাড়গ্রামকে নিয়ে একটি পর্যটন সার্কিট গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতদিন যোগাযোগের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা ছিল। রেলপথ নির্মাণ হলে ওইসব জায়গার মধ্যে যোগাযোগ গড়ে উঠবে। পর্যটকরা কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জায়গা থেকে ট্রেনে চেপে ওই এলাকায় যেতে পারবেন। ফলে তাঁদের খরচ অনেক কম পড়বে। ঝিলিমিলির হোটেল ব্যবসায়ী কাজল দাস বলেন, এখন ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া বা বাঁকুড়া থেকে ছোটো গাড়ি ভাড়া করে পর্যটকদের জঙ্গলমহলে আসতে হয়।
রেল প্রকল্প রূপায়িত হলে তাদের যাতায়াতের অনেক সুবিধা হবে। রঘুনাথ পাল বলেন, পুরুলিয়া থেকে ঝাড়গ্রাম পর্যন্ত রেললাইন পাতা হলে এলাকার ভোল পালটে যাবে। সমগ্র জঙ্গলমহলেরই আর্থ-সামাজিক উন্নতি হবে।