নিজস্ব প্রতিনিধি: আজ, সোমবার থেকে নতুন নিয়মে শুরু হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিকের সেমেস্টার। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও আরামবাগের প্রায় ৭৫ হাজার পরীক্ষার্থী এদিন পরীক্ষায় বসবে। এই পরীক্ষার পুরোটাই হবে মাল্টিপল চয়েস কোয়েশ্চেন পদ্ধতিতে। উত্তর দিতে হবে ওএমআর শিটে। এই প্রথম রাজ্য তথা দেশের কোনও স্কুল বোর্ডের পরীক্ষা হচ্ছে ওএমআর শিটে। তাই সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সবরকম ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশাসন। পরীক্ষায় নকল ও প্রশ্ন ফাঁস রুখতে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। কোনও পরীক্ষার্থী মোবাইল বা কোনও গ্যাজেট নিয়ে ধরা পড়লে তার সমস্ত পরীক্ষা বাতিল হবে।
পুরুলিয়া জেলার বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) মহুয়া বসাক জানিয়েছেন, এবছর পুরুলিয়া জেলার ২৬৯টি স্কুলের মোট প্রায় ২৬ হাজার জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসতে চলেছে। মোট ৭৭টি পরীক্ষাকেন্দ্র করা হয়েছে। এরমধ্যে মেন ভেনু ৪০টি এবং সাব ভেনু ৩৭টি। পুরুলিয়া সদর মহকুমা, রঘুনাথপুর, মানবাজার ও ঝালদায় যথাক্রমে ২৬, ১৯, ১৭ ও ১৫টি পরীক্ষাকেন্দ্র থাকছে।
এবছর বাঁকুড়ায় এবার মোট ৩৪ হাজার ৯৭৮ জন পরীক্ষার্থী তৃতীয় সেমেস্টার দিচ্ছে। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ হাজার ৩৮৩ জন ছাত্র ও ১৭ হাজার ৫৯৫ জন ছাত্রী রয়েছে। জেলায় মোট পরীক্ষার ভেনু রয়েছে ৮৪টি। তারমধ্যে ৬০টি মেন ভেনু ও ২৪টি সাব ভেনু রয়েছে। বাঁকুড়া সদর, বিষ্ণুপুর, খাতড়া মহকুমায় যথাক্রমে ৩৮, ২৫ ও ২১টি পরীক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। জেলার হাতিপ্রবণ এলাকাগুলিতে প্রয়োজন অনুসারে গাড়ির ব্যবস্থা করা হবে বলে প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বাঁকুড়া জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) পীযূষকান্তি বেরা বলেন, প্রথম উচ্চ মাধ্যমিকের সেমেস্টার পদ্ধতিতে পরীক্ষা হচ্ছে। পরীক্ষার যাবতীয় প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই ছাড়া হয়ে গিয়েছে।
আরামবাগে উচ্চ মাধ্যমিকের তৃতীয় সেমেস্টারের পরীক্ষা হবে ২৫টি কেন্দ্রে। মেন ভেনু রয়েছে ১৭টি। সাব ভেনু হয়েছে আটটি। আরামবাগ মহকুমায় এবছর মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা মোট ১০ হাজার ৭৩২ জন। এরমধ্যে ছাত্রের সংখ্যা চার হাজার ৪০০ জন এবং ছাত্রীর সংখ্যা ছয় হাজার ৩৩২ জন। প্রত্যেক কেন্দ্রে স্বাস্থ্যকর্মীরা থাকবেন।
হুগলি জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক উৎপল রক্ষিত বলেন, দেশের মধ্যে এই প্রথম আমাদের রাজ্যে ওএমআরশিটে পরীক্ষা হতে চলেছে। প্রত্যেক কেন্দ্রে একজন করে কাউন্সিলের নমিনি থাকবেন। পর্যাপ্ত পুলিশের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। রামকৃষ্ণ সেতু পেরিয়ে কেন্দ্রে যাতায়াতে যাতে অসুবিধা না হয়, সেই বিষয়টি দেখার জন্য পুরসভা সহ প্রশাসনকে বলা হয়েছে।