


শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: একেই বোধহয় বলে ‘গোদের উপ বিষ ফোঁড়া! একদিকে, এসআইআর নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন হয়রানি চলছেই। নেপথ্যে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের কলকাঠি দেখছে বাংলার মানুষ। তার উপর পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আঁচ বাংলার হেঁশেলে। রান্নার গ্যাস পেতে দুর্ভোগের শেষ নেই। অনেকে দোষারোপ করছেন মোদি সরকারকে। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যুবসাথীর টাকা ঢুকতে শুরু করেছে যুবক-যুবতীদের অ্যাকাউন্টে। এই ত্রিফলাকে সামলে জেলার মানুষকে ব্রিগেডমুখী করতে হিমশিম অবস্থা বিজেপি নেতাদের।
আজ, শনিবার ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনসভা। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা নেতৃত্বকে ৪০ হাজার কর্মী-সমর্থক নিয়ে যাওয়ার টার্গেট দিয়েছে শীর্ষ নেতৃত্ব। সেই মতো দীঘা থেকে দু’টি এবং হলদিয়া থেকে আরও একটি স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতি বিধানসভা থেকে ৪০-৫০টি করে বাসের ব্যবস্থা হয়েছে। আয়োজনের কোনও খামতি নেই। কিন্তু লোক জোগাড় করাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে জেলার নেতাদের। এমনিতেই এসআইআরের অভিঘাতে জেলায় পরিবর্তন যাত্রায় আশানুরূপ সাড়া পড়েনি। বিভিন্ন পথসভায় ফাঁকা চেয়ার পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। যুব সমাজের একটা বড় অংশ বিজেপির মিটিং-মিছিলে থাকত। কিন্তু, যুবসাথী প্রকল্পের কথা মাথায় রেখে তাঁরা এখন প্রকাশ্যে বিজেপির কর্মসূচি থেকে দূরে থাকছেন।
তমলুক সাংগঠনিক জেলা থেকে ২০ হাজার এবং কাঁথি সাংগঠনিক জেলা থেকে আরও ২০ হাজার কর্মী-সমর্থককে ব্রিগেডের সভায় নিয়ে যাওয়ার জন্য টার্গেট দেওয়া হয়েছে। এই কিছুদিন আগে পর্যন্ত যুব সমাজের একটা বড় অংশ বিজেপির কর্মসূচির সামনের সারিতে অংশ নিত। তারুণ্যের শক্তিতে মিটিং, মিছিল চাঙ্গা হয়ে ওঠত। এবার বাধ সেধেছে যুবসাথী। ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের টাকা ঢুকতে শুরু করেছে। ফলত, আবেদন করা যুবক-যুবতীরা বিজেপির কর্মসূচিতে যেতে অনীহা দেখাচ্ছেন। স্কিম থেকে নাম বাদ পড়তে পারে, এই আশঙ্কা কাজ করছে। জেলা থেকে মোট ৩ লক্ষ ২৩ হাজার যুবক-যুবতী যুবসাথীতে আবেদন করেছেন। এক লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে গিয়েছে।
জেলায় এসআইআর নিয়ে বিস্তর হয়রানি হতে হয়েছে প্রায় ৮৫ হাজার মানুষকে। তাঁদের মধ্যে ৮০ হাজার ১৭৬ জন ভোটার এখনও ‘বিচারাধীন’। প্রায় চার হাজার ভোটার জীবিত সত্ত্বেও চূড়ান্ত তালিকা থেকে নাম বাদ পড়েছে। তাঁরা এবার ভোট দিতে পারবেন কিনা নিশ্চিত নন। ভুক্তভোগীরা কমিশন এবং বিজেপির উপর খাপ্পা। তার উপর পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ গ্যাস সরবরাহের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। হাজার হাজার মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। গ্যাসের দাম বৃদ্ধিও হয়েছে। ঠিকমতো বুকও করতে পারছেন না। দিশাহারা জেলার আমজনতা। এক্ষেত্রেও বিজেপি সরকারের নীতিকে দায়ি করেছেন অনেকে। তাতে লোক জোগাড়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে নেতাদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নন্দকুমারের একটি মণ্ডলের সভাপতি বলেন, ‘যুবসাথীর সঙ্গে এসআইআর এবং এলপিজি গ্যাসের সংকট আমাদের কাছে মাইনাস পয়েন্ট। যুব সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশকে এখন পাওয়া যাচ্ছে না। প্রত্যেক মণ্ডল কমিটিতে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত বাস দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও লোকজন পাওয়া নিয়ে বেশ সমস্যায় পড়েছি।’ কাঁথি সাংগঠনিক জেলা বিজেপি সভাপতি সোমনাথ রায় বলেন, ‘আমরা ২০ হাজার কর্মী-সমর্থক নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রেখেছি।’ তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপি নেতা মধুসূদন প্রামাণিক বলেন, ‘আমাদের সাংগঠনিক জেলা থেকে ২০হাজার কর্মী-সমর্থক প্রধানমন্ত্রীর সভায় যাবেন।’ ময়নার বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্ডা বলেন, ‘আমাদের বিধানসভা থেকে ৫০টি বাস রাখা হয়েছে। তৃণমূল গন্ডগোল তৈরি করার জন্য একটা বাইক র্যালি রেখেছে। পুলিশ প্রশাসনকে সবটাই জানিয়েছি।’