Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পাশের হারে ফের সেরা পূর্ব মেদিনীপুর, মেধা তালিকায় জেলার ৭

পাশের হারে ফের সেরা পূর্ব মেদিনীপুর, মেধা তালিকায় জেলার ৭
  • ৩ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পূর্ব মেদিনীপুরের সাত পড়ুয়া মাধ্যমিকে মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছে। পাশাপাশি পাশের নিরিখেও রাজ্যের মধ্যে পুনরায় প্রথম স্থান দখল করল এই জেলা। কাঁথি পুরসভার আঠিলাগড়ির সুপ্রতীক মান্না ও ঐশিক জানা একই স্কুল থেকে মেধা তালিকায় যথাক্রমে চতুর্থ ও নবম হয়েছে। কন্টাই মডেল ইন্সটিটিউশনের দুই কৃতী পড়ুয়াকে নিয়ে গর্বিত স্কুলের শিক্ষক ও সহপাঠীরা। জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিক এদিন সুপ্রতীকের বাড়িতে গিয়ে পুস্পস্তবক দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। মিষ্টিমুখ করিয়ে প্রত্যেকের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন। বিবেকানন্দ মিশন আশ্রম শিক্ষায়তনের দ্যুতিময় মণ্ডলও নবম স্থান অর্জন করেছে। এছাড়াও ৬৮৬নম্বর পেয়ে দশম স্থানে রয়েছে তমলুক হ্যামিল্টন হাইস্কুলের সমন্বয় দাস, চণ্ডীপুরের ধান্যশ্রী কেসি হাইস্কুলের বিশ্রুত সামন্ত, ময়নার পরমানন্দপুর জগন্নাথ ইন্সটিটিউশনের সায়ন বেজ এবং মহিষাদল রাজ হাইস্কুলের সোহম সাঁতরা।

Advertisement

সুপ্রতীক মাধ্যমিকে ৬৯২নম্বর পেয়ে রাজ্যের চতুর্থ হয়েছে। টেস্টে সে স্কুলে পঞ্চম হয়েছিল। চতুর্থ স্থান দখল করার পর কাঁথির বাড়িতে একেবারে চাঁদের হাট। বাবা সুব্রত মান্না পেশায় আইনজীবী। মা রামনগর-১ব্লকের রানিসাই বাণীপীঠ হাইস্কুলের ইংরেজির শিক্ষিকা। সে ভবিষ্যতে আর্কিটেকচার নিয়ে পড়াশোনা করতে চায়।
কন্টাই মডেল ইন্সটিটিউশনের অপর কৃতী ঐশিক জানা মাধ্যমিকে ৬৮৭নম্বর পেয়ে নবম হয়েছে। তার বাড়ি শহরের আঠিলাগড়িতেই। বাবা গৌতমকুমার জানা নামালডিহা হাইস্কুলের শিক্ষক। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ঐশিক ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। স্কুলে প্রথম তিনের মধ্যে না থাকলেও মাধ্যমিক দেওয়ার পরই মেধা তালিকায় জায়গা হতে পারে বলে বলে ঐশিক বাবা-মাকে জানিয়েছিল। এদিন ফল প্রকাশ শুরু হতেই টিভির পর্দায় চোখ রেখেছিল গোটা পরিবার। ছেলের নবম স্থান দখল করতেই খুশিতে ভরে ওঠে জানা পরিবার।
মহিষাদল থানার কালিকাকুণ্ডু গ্রামের দ্যুতিময় মণ্ডল ৬৮৭নম্বর পেয়ে নবম হয়েছে। চৈতন্যপুরে বিবেকানন্দ মিশন আশ্রম শিক্ষায়তনের ছাত্র দ্যুতিময়ের বাবা প্রভাশিস মণ্ডল পেশায় গৃহশিক্ষক। মা গৃহবধূ। দ্যুতিময় বলে, আমি ভবিষ্যতে চিকিৎসক হতে চাই।
তমলুক শহরের শালগেছিয়ার সমন্বয় দাস তমলুক হ্যামিল্টন হাইস্কুল থেকে ৬৮৬নম্বর পেয়ে দশম স্থান দখল করেছে। সমন্বয় ভালো পরীক্ষা দিলেও মেধা তালিকায় জায়গা হবে ভাবেনি। সে ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। বাবা কৌশিক দাস সোনাপেত্যা হাইস্কুলের শিক্ষক। মা চৈতালি মুন্সি দাস আটকিনা হাইমাদ্রাসার শিক্ষিকা। চণ্ডীপুর থানার ধান্যশ্রী কেসি হাইস্কুলের দশম স্থানাধিকারী বিশ্রুত সামন্ত ডাক্তার হতে চায়। বাবা বিকল্প সামন্ত তমলুক-ঘাটাল সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার। মা অশ্রুকণাদেবী এড়াশাল গ্রামীণ হাসপাতালের সিনিয়র নার্স। ময়নার পরমানন্দপুর জগন্নাথ ইন্সটিটিউশনের দশম স্থানাধিকারী সায়ন বেজ ভবিষ্যতে ডাক্তার হতে চায়। বাবা পেশায় রাজমিস্ত্রি। দিনে সাড়ে ৩০০টাকা মজুরি। অভাবের সঙ্গে লড়াই করে সাফল্য পেয়েছে সায়ন। মহিষাদল রাজ হাইস্কুল থেকে দশম স্থানাধিকারী সোহম সামন্ত ভবিষ্যতে চিকিৎসক হতে চায়। বাবা ও মা দু’জনেই হাইস্কুলে শিক্ষকতা করেন।
মাধ্যমিকে পাশের হারে শীর্ষ স্থানে রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর। গোটা রাজ্যে পাশের হার ৮৬.৫৬শতাংশ। পূর্ব মেদিনীপুরে পাশের হার ৯৬.৪৬শতাংশ। ২০২৪সালে মাধ্যমিকে পাশের নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে চলে গিয়েছিল এই জেলা। এবছর হাতছাড়া সেই শিরোপা আবারও দখল করল এই জেলা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ