ব্রিটিশদের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে বেলপাহাড়ীর শবর গ্রামে শুরু হয় পুজো
  • ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: ব্রিটিশদের থেকে মুক্তি পেতে মাকালীর শরণাপন্ন হয়েছিলেন বাবুরাম শবর। মায়ের কৃপায় ব্রিটিশদের ডেরা থেকে পালাতে সক্ষম হওয়ার পর কথা দিয়েছিলেন আমৃত্যু মাতৃ আরাধনা করবেন। সেই শপথ আজও অক্ষরে অক্ষরে পালন করে চলেছে ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ীর পাটাঘর গ্রামের শবর পরিবার। লালজল গুহা পাহাড়ের কোলে, বেলপাহাড়ী সদর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই গ্রামে আজও অমলিন ব্রিটিশ আমলের সেই প্রাচীন কালীপুজো।

Advertisement

বাবুরাম শববের আদি বাড়ি পুরুলিয়ার আঁকরো এলাকার হাতিরামগোড়া গ্রামে। তাঁর নাতি তথা এলাকার প্রাক্তন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান নিত্যানন্দ শবর জানান, তাঁর ঠাকুরদাদাকে কাজের টোপ দিয়ে ইংরেজদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিলেন তাঁরই শ্যালক। ঠাকুরদা জানতে পারেন তাঁদের অসমে চালান করা হবে। বিপদের আশঙ্কায় শৌচকর্মের নাম করে পালানোর চেষ্টা করেন ঠাকুরদা। কিন্তু, তিনি ধরা পড়ে যান। এরপর তাঁকে বন্দি করে রাখা হয় বড়ো এলাকার একটি ইংরেজ ডিপোতে। ​সেই বন্দিদশাতেই মাকালীর কাছে কাতর প্রার্থনা করেন ঠাকুরদা। এই বন্দিদশা থেকে তিনি মুক্তি পেলে আজীবন মায়ের পুজো করবেন বলে শপথ নেন। 
অলৌকিকভাবে রাতেই ওই ডিপো থেকে তিনি পালাতে সক্ষম হন। প্রাণভয়ে আশ্রয় নেন ঝাড়গ্রামের লালজল গুহা পাহাড়ের দুর্গম জঙ্গলে। সেখানেই পাটাঘর গ্রামে নতুন করে ঘর বাঁধেন তিনি। শুরু হয় মা কালীর আরাধনা। এবছরও ঘটা করে পুজো হচ্ছে। 
​বাবুরাম শবরের মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে হিকিম শবর এই পুজোর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। বর্তমানে হিকিমবাবুর ছেলে লক্ষ্মীকান্ত শবরের বাড়িতেই এই ঐতিহ্যবাহী কালী পুজো হয়। পুজোয় গ্রামবাসীদের পাশাপাশি বহু মানুষ মানত করেন। এই পুজোকে কেন্দ্র করে পাটাঘর গ্রামের ২৫টি শবর পরিবার এবং পাশের লালজল গ্রামের মানুষ উৎসবে মেতে ওঠে।
​শুধু স্থানীয়রাই নন, লালজল গুহা পাহাড়ে ঘুরতে আসা পর্যটকদের কাছেও এই পুজোর আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। পাহাড়-জঙ্গলে ঘেরা শবর অধ্যুষিত গ্রামের এই প্রাচীন পুজো দেখতে ও স্বাধীনতা পূর্ববর্তী রোমহর্ষক ইতিহাস জানতে অনেকেই পাটাঘর গ্রামে আসে।