নিজস্ব প্রতিনিধি, কেশপুর: ভোট মিটেছে। কিন্তু এরপর কেশপুরের বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়ের পরিষেবা প্রশ্নের মুখে। বিডিও অফিস থেকে শুরু করে একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়, বহু জায়গাতেই জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতির অভিযোগ উঠছে। ফলে প্রয়োজনীয় পরিষেবা লাটে ওঠার জোগাড়। অনেকেই সরকারি অফিসে পরিষেবা নিতে এসে খালি চেয়ার-টেবিল দেখেই বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। প্রশাসনিক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রয়োজনীয় নথিতে স্বাক্ষর, শংসাপত্র সংক্রান্ত কাজ কিংবা পঞ্চায়েত স্তরের অন্য পরিষেবার জন্য অফিসে গেলেও জনপ্রতিনিধিদের খোঁজ মিলছে না। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাঁদের। কেশপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি চিত্তরঞ্জন গড়াই জানান, ভোটের ফল প্রকাশের পর একবার অফিসে গিয়েছিলাম। এলাকায় এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় অশান্তির ঘটনা ঘটছে। এর জেরে দলের বহু নেতা-কর্মী সমস্যার মধ্যে রয়েছেন।
অন্যদিকে, কেশপুরের তৃণমূল নেতা তথা জেলা পরিষদের দলনেতা মহম্মদ রফিক বলেন, জন প্রতিনিধিরা এখনও দায়িত্বে রয়েছেন। তাই সাধারণ মানুষের জন্য পরিষেবা দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাওয়া উচিত। দীর্ঘদিন ধরে মানুষকে পরিষেবা দেওয়া হয়েছে। এখন সেই কাজ বন্ধ থাকলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল বার্তা যাবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, কেশপুরের বর্তমান পরিস্থিতিকে আলাদা করে দেখলে পুরো ছবি ধরা যাবে না। কারণ এই অঞ্চলের রাজনৈতিক ইতিহাস বরাবরই রাজ্য রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে এসেছে। একসময় কেশপুর ছিল সিপিএমের শক্ত ঘাঁটি। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদল হলেও কেশপুর দীর্ঘ সময় পুরনো সমীকরণেই আটকে ছিল। রাজ্যে বদল হলেও কেশপুর ছিল কিন্তু লাল পার্টির দখলেই। তবে ২০১৬ সালের পর থেকে এই এলাকায় সংগঠন বিস্তারে জোর দেয় তৃণমূল। ধীরে ধীরে রাজনৈতিক জমি শক্ত করতে শুরু করে শাসকশিবির। এরপর থেকেই কেশপুরে ঘাসফুল শিবিরের প্রভাব বাড়তে থাকে। এবারের নির্বাচনেও সেই প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে ফলাফলে। সারা রাজ্যে গেরুয়া ঝড় উঠলেও কেশপুর সেই তৃণমূলের দখলেই রয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অন্য রাজনৈতিক সমীকরণ দেখা গেলেও কেশপুরে তৃণমূল প্রার্থী শিউলি সাহা বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। ৫০ হাজারেরও বেশি ভোটে শিউলিদেবীর জয় রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।কিন্তু ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই নতুন করে অশান্তির অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করে। তৃণমূলের দাবি, বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে অন্য দলের পতাকা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। একাধিক কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন বলেও অভিযোগ। আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হওয়ায় অনেক জনপ্রতিনিধি প্রকাশ্যে আসতে পারছেন না বলে দাবি দলের একাংশের। এদিকে, মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ সভাপতি শংকর গুছাইত বলেন, সরকারি পদে বসে যাঁদের পরিষেবা দেওয়া কর্তব্য, তাঁরা যদি না দেন মানুষই তার বিচার করবে। বিজেপি কোনো হিংসার ঘটনায় যুক্ত নয়।