Bartaman Logo
৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাটমানি ফেরতের দাবিতে জনতার বিক্ষোভ, প্রাণভয়ে খাটের তলায় তৃণমূল নেতা

মাথাভাঙায় কাটমানির অভিযোগে তৃণমূল নেতা খাটের তলায় লুকিয়ে পড়েন। গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ দেখায়। কেন ঘটল এই কাণ্ড? বিস্তারিত পড়ুন।

কাটমানি ফেরতের দাবিতে জনতার বিক্ষোভ, প্রাণভয়ে খাটের তলায় তৃণমূল নেতা
  • ৫ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

সন্দীপ বর্মন, মাথাভাঙা: কাটমানি নিয়েছেন তৃণমূল নেতা। জমানা বদল হতেই সেই টাকা ফেরতের দাবিতে সরব গ্রামবাসীরা। ক’দিন আগে অভিযুক্তের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ হয়েছে। বুধবার রাতে ফের গ্রামের লোকজন গিয়ে জড়ো হন অভিযুক্তের বাড়ির সামনে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রাণভয়ে আজব কাণ্ড ঘটালেন মাথাভাঙার ওই জোড়াফুল নেতা তথা পেশায় সিভিক ভলান্টিয়ার সহিদুল মিঁয়া। পাশেই তাঁর কাকার বাড়ি। পালিয়ে সেখানে আশ্রয় নেন অভিযুক্ত। বিক্ষোভকারীদের হাত থেকে বাঁচতে সটান ঢুকে পড়েন খাটের তলায়। গ্রামবাসীরা অনেক কষ্টে তাঁকে খুঁজে বের করেন। সহিদুলকে ঘিরে চলে তুমুল বিক্ষোভ। যদিও পরে অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। গোটা ঘটনার ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। ‘বর্তমান’ অবশ্য ওই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি। বৃহস্পতিবার ধৃতকে আদালতে পেশ করে মাথাভাঙা থানার পুলিশ। সহিদুলকে একদিনের পুলিশ হেপাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, মারধরের মামলা দায়ের হয়েছে। যদিও যাবতীয় অভিযোগে অস্বীকার করেছে ওই নেতার পরিবার।

Advertisement

মাথাভাঙা-১ ব্লকের জোরপাটকি গ্রাম পঞ্চায়েতের ভিতরাবনে বাড়ি ধৃত সহিদুল মিয়াঁর। এলাকায় দাপটের সঙ্গে তৃণমূল করতেন। ২০২০ সাল নাগাদ তিনি সিভিকের চাকরি পান। সহিদুলের স্ত্রী মাথাভাঙা-১ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যও ছিলেন। অভিযোগ,সেই প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় দাদাগিরি চালাতেন ওই নেতা। আবাস যোজনা সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের উপভোক্তাদের কাছ তিনি কাটমানি তুলেছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। বিজেপি নেতা-নেত্রীদেরও ধমকানো-চমকানো এমনকি মারধর করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। 
স্থানীয়রা জানান, সিভিকের চাকরিতে ঢোকার পরও এলাকায় তৃণমূলের হয়ে কাজ করতেন সহিদুল। রাজ্যে পালাবদলের পর বেশ কয়েকদিন গা ঢাকা দিয়েছিলেন। কয়েকদিন আগেও গ্রামের বেশকিছু বাসিন্দা তাঁর বাড়ির সামনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। কাটমানি ফেরতের দাবি জানিয়েছেন। বুধবার রাতেও বিক্ষোভ দেখানোর সময় বাড়ি লাগোয়া কাকার ঘরে গিয়ে লুকিয়ে পড়েন সহিদুল। কেউ যাতে বুঝতে না পারে, সেজন্য খাটের তলায় লুকিয়ে পড়েন। পরে সেখান থেকে সহিদুলকে টেনে বের করেন গ্রামবাসীরা। খবর দেওয়া হয় মাথাভাঙা থানায়।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপির স্থানীয় শক্তিপ্রমুখ সুরিতা বর্মন বলেন, ‘আমাকে কয়েকবার গালিগালাজ করেছিলেন সহিদুল। দলবল নিয়ে এসে আমার স্বামীকে মারধরও করেছেন। সিভিক হওয়ার পরও তৃণমূলের হয়ে কাজ, তোলাবাজি সবই করেছেন।’ সহিদুল যে দলের নেতা ছিলেন, সেকথা স্বীকার করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন জেলা চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মন। তিনি বলেন, ‘ওকে আমি চিনি। তবে যে যেমন কাজ করবে, তাকে সেরকম ফল ভোগ করতে হবে।’ মাথাভাঙা থানার আইসি সমরেন হালদার বলেন,‘নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সহিদুল মিয়াঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতকে একদিনের হেপাজতে পেয়েছি। ওঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

সম্পর্কিত সংবাদ