রাজদীপ গোস্বামী, চাঁদড়া: একসময় মাওবাদী আন্দোলনের জেরে উন্নয়নমূলক কাজ একেবারে থমকে গিয়েছিল। পঞ্চায়েত অফিসের চারপাশে হার্মাদ বাহিনীর ক্যাম্প থাকার কথা মানুষের মুখে মুখে ফেরে। কিন্তু, এখন সেই এলাকায় ফিরেছে শান্তি। সেইসঙ্গে সারাবছর ধরে নানা জনমুখী প্রকল্পের কাজ হচ্ছে। ছবিটা মেদিনীপুর সদর ব্লকের চাঁদড়া পঞ্চায়েতের। এই পঞ্চায়েতের তরফে ১৫ অর্থ কমিশনের প্রায় ১০০শতাংশ টাকা খরচ করে নানা উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ হয়েছে। পঞ্চায়েতের তরফে বহু এলাকায় পানীয় জলের প্রকল্প রূপায়িত হয়েছে। মানুষ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথী সহ নানা প্রকল্পের সুবিধা পান। তবে এখনও বহু এলাকায় রাস্তায় আলো না থাকায় মানুষকে সমস্যায় পড়তে হয়।মেদিনীপুরের বিধায়ক সুজয় হাজরা বলেন, জেলার বেশিরভাগ পঞ্চায়েত ভালো কাজ করছে। তার মধ্যে চাঁদড়া পঞ্চায়েত অন্যতম। এলাকার মানুষ এখনও সিপিএমের অত্যাচারের কথা মনে রেখেছেন। এই পঞ্চায়েতের মানুষের পাশে থাকব।
চাঁদড়ার উপপ্রধান তারকনাথ বেরা বলেন, পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে সারাবছর মানুষকে পরিষেবা দেওয়া হয়। চলতি অর্থবর্ষেও নানা উন্নয়নমূলক কর্মসূচি নেওয়া হবে। মানুষকে পরিষেবা দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। বেশ কিছু এলাকায় সমস্যা রয়েছে। সেই সমস্যার দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। বিধায়ক পাশে থাকায় আরও কাজ হবে।
মেদিনীপুর সদর ব্লকের অন্যতম পঞ্চায়েত চাঁদড়া। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে নদী-তীরবর্তী এই পঞ্চায়েতের ১৮টি আসনের মধ্যে ১৬টি তৃণমূল দখল করে। বাকি দু’টিতে নির্দল প্রার্থী জয়ী হন। এরপর উন্নয়নের কাজের গতি আরও বাড়িয়ে দেন জনপ্রতিনিধিরা। শুধুমাত্র গত অর্থবর্ষেই এখানে ২৪লক্ষ টাকায় ১২টি রাস্তা সংস্কার হয়েছে। এছাড়া, দু’টি নালা, ৪৩টি সৌরবাতি, ২২টি জলপ্রকল্প, একটি কমিউনিটি হল ও সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প চালু হচ্ছে। সবমিলিয়ে, গত অর্থবর্ষে ১কোটি ১৬লক্ষ টাকার বেশি খরচ করে নানা প্রকল্প রূপায়িত করেছে পঞ্চায়েত। ২০২৩-’২৪ অর্থবর্ষেও এই পঞ্চায়েত কোটি কোটি টাকার কাজ করেছে।
তবে এই পঞ্চায়েতে কংসাবতী নদীর পাড় ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। হাতির হানার সমস্যাও রয়েছে। পঞ্চায়েতের প্রধান ফাল্গুনী দে বলেন, কাজের গতি আরও বাড়াতে হবে। সারা দিনে প্রচুর মানুষ পঞ্চায়েত অফিসে এসে পরিষেবা পায়। মানুষের সমস্যা সমাধানের আন্তরিকভাবে চেষ্টা করা হয়। মেদিনীপুরে সদর ব্লক তৃণমূল সভাপতি গৌতম দত্ত বলেন, এই এলাকার মানুষ প্রতিশ্রুতি নয়, সত্যিকারের উন্নয়ন চান। একটা সময় মারামারি, হানাহানি লেগেই থাকত। কিন্তু মানুষ সেটা চায় না। তাই এলাকায় বিরোধীদের খুঁজে পাওয়া যায় না।