নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: পাতাওয়ালা মাধব খেরিয়াকে মেরেও শান্ত হয়নি ‘মানিক’। বনদপ্তর সূত্রে খবর, এখন পুরোদমে তার ‘মস্তি’ চলায় গোরুমারার পিলখানায় পায়ে লোহার বেড়ি পরিয়ে, বেঁধে রাখা হয়েছে ওই কুনকিকে। তার নজরদারিতে গঠন করা হয়েছে পাঁচ সদস্যের বিশেষ টিম। ওই টিমে রয়েছেন অভিজ্ঞ মাহুত, বিট অফিসার এবং চিকিৎসক। তাঁরা সারাক্ষণ নজর রাখছেন মানিকের উপর। প্রচণ্ড শীতেও শরীর ঠান্ডা করতে মানিককে স্নান করানো হচ্ছে। দেওয়া হচ্ছে হালকা খাবার। চলছে ওষুধপত্র। তারপরও মাঝেমধ্যে বিগড়ে যাচ্ছে মানিকের মেজাজ। বনকর্তারা জানিয়েছেন, পুরুষ হাতিদের সঙ্গীনির সঙ্গে মিলনের ইচ্ছে হলে ‘মস্তি’ আসে। সেসময় প্রচণ্ড উত্তেজিত থাকে তারা। শরীরে প্রবল জোর হয়। মুখ দিয়ে লালা ঝরে। গায়ে এত শক্তি আসে যে, লোহার শিকলও ছিঁড়ে দিতে পারে। মানিকও ওই অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।
Advertisement
গোরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের এডিএফও রাজীব দে বলেন, প্রি-মস্তি লক্ষণ দেখা গিয়েছিল মানিকের মধ্যে। কিন্তু পাতাওয়ালা মাধব কিংবা ওই কুনকির দায়িত্বে থাকা মাহুত যে কোনওভাবেই হোক, বুঝতে পারেননি। তারই জেরে দুর্ঘটনা ঘটে গিয়েছে। এডিএফও বলেন, আমরা প্রত্যেক পাতাওয়ালাকে একজন সিনিয়র মাহুতের অধীনে কাজ করতে বলেছি। ওই মাহুতের অনুমতি ছাড়া পাতাওয়ালা জঙ্গলে কিংবা কুনকির কাছে যাওয়ার ব্যাপারে নিজে থেকে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। পাতাওয়ালা ও মাহুতদের বলা হয়েছে, একা কেউ কুনকি নিয়ে জঙ্গলে যাবেন না। যখনই যাবেন, একসঙ্গে অন্তত যেন চার-পাঁচজন থাকেন। মানিককে ‘শান্ত’ করতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গোরুমারার প্রধান মাহুত দীনবন্ধু বর্মনকে। কিন্তু কতদিনে তার মস্তি ছাড়বে, তা জানা নেই বনকর্মীদের। এডিএফও বলেন, এর আগে গোরুমারায় কিরণরাজ নামে একটি কুনকির মস্তি হয়েছিল। সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়ায় কোনও অঘটন ঘটেনি। এক্ষেত্রেও তা সম্ভব হতো। কিন্তু খুবই কম সময়ের মধ্যে সবটা ঘটে গিয়েছে।
অভিযোগ, বনদপ্তরের কটেজ কর্মী হিসেবে কাজে যোগ দিলেও মাধবকে দিয়ে পাতাওয়ালার কাজ করানো হচ্ছিল। যদিও অভিযোগ উড়িয়ে এডিএফও বলেন, এক পদে চাকরিতে যোগ দিয়ে কি অন্য কাজ করানো হয় না? এসব কথার যুক্তি নেই।
অভিযোগ, বনদপ্তরের কটেজ কর্মী হিসেবে কাজে যোগ দিলেও মাধবকে দিয়ে পাতাওয়ালার কাজ করানো হচ্ছিল। যদিও অভিযোগ উড়িয়ে এডিএফও বলেন, এক পদে চাকরিতে যোগ দিয়ে কি অন্য কাজ করানো হয় না? এসব কথার যুক্তি নেই।



