Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পাঠ্যক্রমে ব্রাত্য সেক্স এডুকেশনের পাঠ দেবে পুলিস, প্রতিটি স্কুলেই সেমিনার

পাঠ্যক্রমে ব্রাত্য সেক্স এডুকেশনের পাঠ দেবে পুলিস, প্রতিটি স্কুলেই সেমিনার
  • ১৫ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: পড়ুয়াদের স্কুলের পাঠ্যক্রমে ব্রাত্য থাকা সেক্স এডুকেশনের পাঠ দেবে পুলিস। এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছে কৃষ্ণনগর পুলিস জেলা। বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে এই নিয়ে সেমিনার করবেন পুলিস আধিকারিকরা। ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে বিভিন্ন সময় সেশন করা হবে। যেখানে সোশ্যাল মিডিয়ার অপরাধের পাশাপাশি সেক্স এডুকেশন নিয়ে দীর্ঘ খোলামেলা আলোচনা চলবে। সেইসঙ্গে চলবে ট্যাবু ভাঙার প্রক্রিয়াও। কারণ এই বিষয় নিয়ে পাঠ দেওয়ার কাজ আগে কোথাও দেখা যায়নি। পুঁথিগত বিদ্যার আড়ালেই চাপা পড়ে গিয়েছে বর্তমান সময়ের পাঠ্যক্রমের অন্যতম একটি অধ্যায়। এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের। 
Advertisement
কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার ডিএসপি শিল্পী পাল বলেন, ‘এতদিন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার, অপব্যবহার নিয়ে আলোচনা হতো। সেইমতো বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে আমরা সেমিনার করতাম। এবার সেখানে নতুন একটি অধ্যায় যোগ করা হয়েছে, সেক্স এডুকেশন। বর্তমান সময়ে এটি একটি অন্যতম অধ্যায়। ইতিমধ্যেই এই কাজ শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে গোটা জেলাতেই সেমিনার করা হবে।’
পুলিসের তরফ থেকে এমনিতেই স্কুলে স্কুলে সচেতনতার শিবিরের আয়োজন করা হয়। যার পোশাকি নাম স্বয়ংসিদ্ধা। সেখানেও পুলিস আধিকারিকরা সেমিনার করে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তবে এতদিন এই কর্মসূচির মূল ফোকাস থাকত সাইবার অপরাধের উপর। এবার তার সঙ্গে সেক্স এডুকেশনকে যুক্ত করেছে কৃষ্ণনগর পুলিস জেলা। বাল্য বিবাহ, গুড টাচ-ব্যাড টাচ, স্কুলছুট, বয়ঃসন্ধিকালীন বিভিন্ন সমস্যার বিষয়কে সেক্স এডুকেশনের পাঠ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। সেইসঙ্গে আবেগপ্রবণ হয়ে বন্ধু কিংবা ভালোবাসার মানুষ নির্বাচনেও সতর্কতা অবলম্বন করার বিষয়টিও বোঝাবেন পুলিস আধিকারিকরা। সেইসঙ্গে ইন্টারনেটের দুনিয়ায় ভুল ফাঁদে পড়া থেকে কীভাবে বিরত থাকা যাবে সেই নিয়ে আলোচনা করা হবে স্কুল পড়ুয়াদের সঙ্গে। এছাড়াও এই বিষয়ে আইনে কী ধরনের ধারা রয়েছে, তা স্কুল পড়ুয়াদের জানানো হবে। পাশাপাশি বর্তমান সময়ের বিভিন্ন রকম অপরাধ নিয়েও তাঁদের অবগত করা হবে।
সম্প্রতি ভীমপুর থানার অন্তর্গত কুলগাছি রামকৃষ্ণ বিদ্যামন্দিরে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছিল। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও পুলিস আধিকারিকরা শ্রেণিকক্ষের ভিতরে যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করেছিলেন। অ্যান্টি হিউম্যান ট্রাফিকিং ইউনিট, মহিলা থানার পুলিস, ভীমপুর থানার পুলিস এবং সাইবার থানার পুলিস আধিকারিকরা সেই সেমিনার করেন। স্কুলের শিক্ষিকা সিলভি সাহা বলেন, ‘সেমিনারে পকসো অ্যাক্ট আইন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিও কলিংয়ের মাধ্যমে যৌন নির্যাতনের মতো বিষয়গুলোতে আলোকপাত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, দিল্লিতে পাঠ্যক্রমে সেক্স এডুকেশনকে যুক্ত করার পরিকল্পনা শুরু‌ হয়েছে। আমাদের পশ্চিমবঙ্গেও তা নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। কারণ এই সংবেদনশীল বিষয়টি কীভাবে পড়ুয়াদের সামনে তুলে ধরা হবে, তাই নিয়ে সন্দিহান শীর্ষ মহল। যদিও অনেকে মনে করেন, স্কুল স্তরে এই শিক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ চারপাশের বদলের সঙ্গে সময়ের আগেই ‘বড়’ হয়ে উঠছে শিশুমন।
সম্পর্কিত সংবাদ