Bartaman Logo
১২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পশ্চিম মেদিনীপুরে কয়েক বছরে কমেছে প্রসূতি মৃত্যু

পশ্চিম মেদিনীপুরে কয়েক বছরে কমেছে প্রসূতি মৃত্যু
  • ২৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
রাজদ্বীপ গোস্বামী, মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় গত কয়েক বছরে কমেছে প্রসূতি মৃত্যুর হার। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হচ্ছে,যেখানে ২০২১-’২২ সালে ৬৫ জন প্রসূতির মৃত্যু হয়েছিল। সেখানে চলতি বছরে ৩০ জন প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। প্রসূতি মৃত্যুর হার আরও কমিয়ে আনতে একগুচ্ছ পরিকল্পনাও করছে স্বাস্থ্যদপ্তর। দপ্তরের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান পদ্ধতিতে প্রসবের পর অসুস্থ হয়ে পড়া রেখা সাউকে বৃহস্পতিবার হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাঁর পরিস্থিতি স্থিতিশীল। রেখাদেবীর ঘন ঘন জ্বর আসছিল। তবে টানা চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হয়ে উঠেছেন। কিন্তু এখনও রোগীর পরিজনদের একাংশের মতে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আয়াদের দৌরাত্ম্য ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এরফলে প্রতিটা পদক্ষেপে দিতে হয় টাকা। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা মিললেও আয়া ও দালালদের টাকার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। 
Advertisement
এদিন রেখাদেবীর স্বামী সন্তোষ সাউ বলেন, স্ত্রীকে ছুটি দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে আক্ষেপ থেকে যাবে প্রথম সন্তানকে বাঁচাতে পারলাম না। চাইব সন্তানের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরে তদন্ত সঠিক পথে চলবে। এটা ঠিক, হাসপাতালে প্রতিটা পদক্ষেপে টাকা দিতে হয়। সাধারণ পরিবারগুলোকে খুবই সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। সন্তান বাঁচাতে না পারলেও সন্তান হওয়ার পর ধাপে ধাপে টাকা নেওয়া হয়েছে। জানি না এই সমস্যার সমাধান কবে হবে। 
এদিন পশ্চিম মেদিনীপুরের সিএমওএইচ সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গী বলেন, জেলাজুড়ে প্রসূতি মৃত্যুর হার আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে। অন্যান্য মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তুলনায় মেদিনীপুরের অবস্থা ভালো। আমাদের লক্ষ্য মানুষকে আরও ভালো পরিষেবা দেওয়া। পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। 
উল্লেখ্য, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসতেই রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। দ্রুত স্বাস্থ্য বিভাগের তরফে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। অসুস্থ বাকি চার প্রসূতির মধ্যে তিনজনকেগ্রিন করিডর করে এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠানো হয়। শুরু হয় সিআইডি তদন্ত। ঘটনার নিন্দা করে কড়া পদক্ষেপ নেন মুখ্যমন্ত্রী। এখনও চলছে তদন্ত। কিন্তু এই ঘটনার পর থেকে পরিষেবার উন্নতি হয়েছে বলে মানছেন রোগীর পরিজনরা। এরফলে প্রসূতি মৃত্যুর সংখ্যা আরও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে মানছেন স্বাস্থ্যদপ্তরের আধিকারিকরা। এক আধিকারিক বলেন, জেলায় ২০২১-’২২ সালে ৬৫ জন, ২০২২-’২৩ সালে ৫৬ জন, ২০২৩-’২৪ সালে ৪৫ জন প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে প্রসূতি ভর্তির সংখ্যা বেশি। সেই কথা মাথায় রেখে বেডের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া প্রসূতিদের ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং করা হচ্ছে। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মাতৃমা বিভাগের সামনে দাঁড়িয়ে শালবনীর এক প্রসূতির বাবা চন্দন গোপ বলেন, পরিষেবা আগের তুলনায় ভালো হয়েছে। সময় করে চিকিৎসকরা এসে দেখছেন।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ