মিউনিখ: বছর তিনেক আগেও তাঁকে বলা হত স্রেফ প্রতিশ্রুতিমান ফুটবলার। বার্সেলোনায় থাকাকালীন অন্যের ছায়াতেই ঢাকা থাকতেন। তবে ২০২৩ সালে মরশুমের মাঝপথে দল বদল করে স্বদেশের ক্লাব পিএসজি’তে যোগ দেন ওসুমানে ডেম্বেলে। পরের মরশুমেই ক্লাবের প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের অন্যতম নায়ক হয়ে ওঠেন এই ফরাসি উইঙ্গার। সেই সুবাদে জেতেন ব্যালন ডি’ওর। চলতি মরশুমেও সেই ছন্দ বজায় রেখেছেন তিনি। আর ডেম্বেলের দুরন্ত পারফরম্যান্সে ভর করে টানা দ্বিতীয়বারের জন্য ইউরোপ সেরার ফাইনালে পৌঁছল প্যারিসের ক্লাবটি। বুধবার সেমি-ফাইনালের ফিরতি পর্বে অ্যালায়েঞ্জ এরিনায় বায়ার্ন মিউনিখের বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করে লুই এনরিকে ব্রিগেড। তবে প্রথম লেগে ঘরের মাঠে জয়ের সুবাদে ৬-৫ ব্যবধানে ফাইনালে টিকিট নিশ্চিত করল পিএসজি। আর দু’লেগেই স্কোরশিটে নাম তোলেন ডেম্বেলে। পার্ক দ্য প্রিন্সেসে জোড়া লক্ষ্যভেদের পাশাপাশি বুধবার তাঁর গোলেই শুরুতে লিড নেয় ফরাসি ক্লাবটি। সংযোজিত সময়ে হ্যারি কেনের গোলে ঘরের মাঠে হার এড়ালেও ইউরোপ সেরার লড়াই থেকে ছিটকে গেল ভিনসেন্ট কোম্পানির দল। আগামী ৩০ মে বুদাপেস্টের পুসকাস এরিনায় খেতাবি লড়াইয়ে আর্সেনালের মুখোমুখি হবে পিএসজি।
ক্লাব ফুটবলে দীর্ঘ সময় বাদে ত্রিমুকুট জয়ের স্বপ্ন দেখছিল বায়ার্ন। ইতিমধ্যেই বুন্দেশলিগা খেতাব ঘরে তুলেছে মিউনিখের ক্লাবটি। পাশাপাশি জার্মান কাপের ফাইনালে পৌঁছেছে তারা। তবে ভিনসেন্ট কোম্পানি ব্রিগেডের যাবতীয় নজর ছিল ইউরোপ সেরার লড়াইয়ের দিকে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনাল পর্যন্ত একপ্রকার অপ্রতিরোধ্য দেখাচ্ছিল তাদের। তবে শেষ চারের প্রথম লেগে ধাক্কা খায় বায়ার্ন। পিএসজি’র কাছে হেরে মাঠ ছাড়ে। ম্যাচে একটা সময় ২-৫ পিছিয়ে পড়েও দু’গোল পরিশোধ করে ব্যবধান ৪-৫ করেন হ্যারি কেনরা। তাই মনে হয়েছিল, ঘরের মাঠে হয়তো কিছুটা হলেও মানসিকভাবে এগিয়ে থাকবে বায়ার্ন। তবে অ্যালায়েঞ্জ এরিনায় ম্যাচ শুরুর তিন মিনিটের মধ্যেই পিএসজি’কে এগিয়ে দেন ডেম্বেলে। বাঁদিক থেকে দ্রুত গতিতে আক্রমণে উঠে বক্সের পাস বাড়ান খাভিচা। তা থেকে নিখুঁত শটে জাল ফরাসি উইঙ্গার (১-০)। সেই সুবাদে পিএসজি’র পক্ষে ব্যবধান দাঁড়ায় ৬-৪।
ঘরের মাঠে শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফেরার মরিয়া প্রয়াস চালায় বায়ার্ন। তবে পিএসজি’র বক্সের কাছাকাছি পৌঁছে খেই হারিয়ে ফেলেন হ্যারি কেন-মাইকেল ওলিসেরা। বেশ কিছু সিদ্ধান্তও তাঁদের বিপক্ষে যায়। যা নিয়ে রেফারির উপর ক্ষোভ উগরে হলুদ কার্ড দেখেন লুইস ডিয়াজ। অবশেষে ম্যাচের সংযোজিত সময়ে দলকে সমতায় ফেরান হ্যারি কেন (১-১)। তবে ততক্ষণে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলেছে এনরিকে ব্রিগেড।