Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাবে ধুঁকছে বান্দোয়ানের হেত্যাকল হাইস্কুল

পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাবে ধুঁকছে বান্দোয়ানের হেত্যাকল হাইস্কুল
  • ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাবে ধুঁকছে বান্দোয়ানের হেত্যাকল হাইস্কুল। দীর্ঘদিন ধরে এই স্কুলে একাধিক বিষয়ের শিক্ষক নেই। সেই সঙ্গে হস্টেলও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। স্কুলের সীমানা প্রাচীর না থাকায় নিয়মিত সমস্যায় পড়েছে ছাত্রছাত্রীরা। 
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হেত্যাকোল, পারবাইদ, হলুদবনী সহ ছোটবড় প্রায় ১০-১২টি গ্রামের উচ্চশিক্ষার একমাত্র প্রতিষ্ঠানটি ধুঁকছে শিক্ষকের অভাবে। পঞ্চম থেকে দশম মোট ছ’টি শ্রেণির জন্য রয়েছে মাত্র চারজন স্থায়ী শিক্ষক এবং দু’জন পার্শ্বশিক্ষক। বাধ্য হয়ে এলাকার শিক্ষার্থীরা দূরের বিদ্যালয়ে চলে যাচ্ছে। বান্দোয়ান ব্লকের গুড়ুর গ্রাম পঞ্চায়েতের হেত্যাকোল হাইস্কুলের এই দশা দেখে হতাশ এলাকার বাসিন্দারাও।
এলাকার বাসিন্দারা জানান, একসময় এই স্কুলে ১২জন স্থায়ী শিক্ষক ছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা অবসর নেন। উৎসশ্রী পোর্টাল চালু হওয়ার পর একজন অন্যত্র বদলি হয়ে চলে যান। সম্প্রতি একজন প্যারাটিচার প্রাইমারিতে যোগদান করলে বর্তমানে ছ’টি ক্লাসের জন্য প্যারাটিচার সহ মোট শিক্ষকের সংখ্যা ছ’জন। এরমধ্যে গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ের জন্য কোনও শিক্ষক নেই। তিনজন স্থায়ী শিক্ষকের মধ্যে একজন আবার দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। শিক্ষকের অভাবে স্কুলের পঠনপাঠনও ব্যাহত হয়। ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা কমতে কমতে এই মুহূর্তে ১৬১জন। 
একসময় এই বিদ্যালয়ে ৫০০জনের চেয়েও বেশি ছাত্রছাত্রী ছিল। ছাত্রদের জন্য আবাসিক হস্টেলও চালু হয়েছিল। কিন্তু সেসব আজ অতীত। বিদ্যালয়ের টিআইসি তাপস মণ্ডল বলেন, শিক্ষক কম থাকায় ছাত্রছাত্রীর সংখ্যাও দিনে দিনে কমে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞান বিভাগের কোনও শিক্ষক নেই। ইংরেজির একমাত্র শিক্ষক আগামী বছরের শেষে অবসর নেবেন। তাই সরকারিভাবে বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ না হলে এই সমস্যা মিটবে না।স্কুল সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বিদ্যালয়ে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের জন্য পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদ থেকে অর্থ বরাদ্দ হয়েছিল কিন্তু সেটা টেন্ডার হয়েও শেষ পর্যন্ত কাজ হয়নি বলে অভিযোগ। বিদ্যালয়ের পরিচালন কমিটির চেয়ারম্যান কৃষ্ণপদ মাহাত বলেন, সরকারি উদাসীনতায় ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যাচ্ছে একটি প্রতিষ্ঠান। আমরা প্রতিবার শিক্ষকের জন্য আবেদন জানানো সত্ত্বেও পর্যাপ্ত শিক্ষক পাচ্ছি না। তাই আমরা চাইছি দ্রুত সরকারিভাবে শিক্ষক নিয়োগ করা হোক। তাতে এই প্রতিষ্ঠান তার অতীতের মর্যাদা ফিরে পাবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় অতিথি শিক্ষক নিয়োগ করার মতো পরিস্থিতিও নেই। বাউন্ডারি নির্মাণের জন্য টেন্ডার হয়েও তা বাতিল হয়ে গিয়েছে বলে শুনেছি। এই এলাকায় একটা বড় অংশের মানুষ আদিবাসী সম্প্রদায়ের। শবর জনজাতির মানুষ বাস করেন বেশ কয়েকটি গ্রামে। 
সবদিক বিবেচনা করেই দ্রুত স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ করার প্রয়োজন। তবে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক মহুয়া বসাক বলেন, নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ না হলে এক্ষেত্রে আমাদের কিছু করণীয় নেই।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ