Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পরিত্যক্ত হস্টেলে দুষ্কৃতীদের আখড়া, বসে মদের আসরও

পরিত্যক্ত হস্টেলে দুষ্কৃতীদের আখড়া, বসে মদের আসরও
  • ২৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, বারুইপুর: এক সময় ছাত্রদের ভিড়ে গমগম করত হস্টেল। কিন্তু গত ৯-১০ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে ভবনটি। নেই কোনও জানালা, দরজা। জঙ্গলে ঢেকেছে চারপাশ। অভিযোগ, দিনের পর দিন দুষ্কৃতীদের আখড়া হয়ে উঠছে এই হস্টেল। সন্ধ্যার পর চলে মদ্যপানের আসর। বাসিন্দাদের দাবি, হস্টেলের পাশের রাস্তা দিয়ে যেতে ভয় লাগে। কলেজ কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে প্রশাসনের কোনও নজর নেই। এমনই অবস্থা মন্দিরবাজারের বীরেশ্বরপুর ‘গৌর মণ্ডল ও শচীন মণ্ডল কলেজ’ লাগোয়া খগেন নস্কর ছাত্রাবাসের। কলেজের প্রতিষ্ঠাতা পরিবার ক্ষুব্ধ সংস্কারের কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায়। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দেবপ্রসাদ মণ্ডল বলেন, বাস্তুকাররা হস্টেল দেখে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছিলেন। আমরা রাজ্য সরকারকে এই বিষয়ে জানিয়েছি। অন্যদিকে, মন্দিরবাজারের বিধায়ক জয়দেব হালদার বলেন, হস্টেল ভেঙে দিয়ে নতুন করার জন্য আমরা প্রশাসনের সব স্তরে জানিয়েছি। আরও টহলদারির জন্য পুলিস প্রশাসনকে বলা হবে।    
Advertisement
লক্ষ্মীকান্তপুর শাখার মাধবপুর স্টেশন থেকে কয়েক মিনিটের দূরত্বে কলেজটি রয়েছে। আর এই কলেজের পাশেই প্রায় ১ বিঘার বেশি জমিতে দোতলা ভবন নিয়ে হস্টেল। তবে দূর থেকে হস্টেল দেখলে মনে হবে ভূতুড়ে বাড়ি। একতলা, দোতলা সব ঘর ভেঙে গিয়েছে। সাপের উপদ্রব বেড়েছে। কলেজের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য পলাশ মণ্ডল বলেন, কলেজের ছেলেমেয়েদের থাকার জন্য আমার দাদু শচীন মণ্ডল আর প্রপিতামহ গৌর মণ্ডল জমি দিয়েছিলেন কলেজের হস্টেল নির্মাণের জন্য। ভবন নির্মাণে সাহায্য করেছিলেন বল্লভপুরের বাসিন্দা খগেন নস্কর। তাঁর নামেই নাম হয় খগেন নস্কর ছাত্রাবাস। প্রায় ৬০-৭০ জন ছাত্র থাকতে পারত। কিন্তু নজরদারির অভাবেই গত ৯-১০ বছর আগে সেই হস্টেল ভেঙে পড়ে। জানালা, দরজা সব চুরি হয়ে গিয়েছে। ঘরের ভিতরে তক্তপোশ ছিল তাও চুরি হয়ে যায়। এখন দুষ্কৃতীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে জায়গা। অসামাজিক কাজকর্ম হয়। আমরা পুলিস থেকে শুরু করে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়েছিলাম। কিন্তু কাজ হয়নি। এলাকার বাসিন্দারা বলেন, হস্টেলে দিন দুপুরে মদ্যপদের আড্ডা বসে। সন্ধ্যার পর ওই চত্বরে যাওয়া যায় না। -নিজস্ব চিত্র
সম্পর্কিত সংবাদ