Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রথম কিস্তির টাকাই খরচ হয়নি নজরে ডোমকলের বহু পঞ্চায়েত

প্রথম কিস্তির টাকাই খরচ হয়নি নজরে ডোমকলের বহু পঞ্চায়েত
  • ১৫ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, ডোমকল: প্রথম কিস্তির টাকা সেই কবেই ঢুকেছে। চলতি মাসেই ঢোকার কথা পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের দ্বিতীয় কিস্তির টাকাও। কিন্তু এখনও পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের পড়ে থাকা পুরনো টাকাই খরচ করতে পারেনি ডোমকল মহকুমার একাধিক পঞ্চায়েত। দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ঢোকার আগে ওই টাকা খরচ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে একাধিক পঞ্চায়েত। কোনও কোনও পঞ্চায়েতে পড়ে থাকা টাকার অঙ্কের পরিমাণ প্রায় কোটি ছুঁইছুঁই। অভিযোগ, কোথাও সদস্যদের সদিচ্ছার অভাব, কোথাও দলীয় কোন্দল, কোথাও আবার পুরনো বোর্ডের রেখে যাওয়া টাকা খরচ করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে পঞ্চায়েতগুলিকে।
Advertisement
প্রশাসন সূত্রের খবর, গ্রামীণ এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজকর্মের জন্য ২০২০-২১ আর্থিক বছরে চালু করা হয়েছিল পঞ্চদশ অর্থ কমিশন। কেন্দ্রীয় সরকার পাঁচ বছরের জন্য এই কমিশন চালু করে। সংশ্লিষ্ট কমিশনের জন্য কেন্দ্র থেকে অর্থ বরাদ্দ করা হয়। কমিশনের সেই অর্থ থেকে গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদ অর্থাৎ ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় অর্থ বরাদ্দ করা হয়। ২০২৪-২৫ আর্থিক বছর শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে বলেই খবর সূত্রে। পরবর্তীতে ষোড়শ অর্থ কমিশনের সূচনা হবে।
পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের প্রথম কিস্তির টাকা মাস কয়েক আগেই ঢুকেছে। ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থার অন্তর্বতী হওয়ায় পঞ্চায়েতগুলিতেও সেই অর্থ ঢুকেছিল। কিন্তু মহকুমা প্রশাসনের একাধিক সূত্রের খবর, ডোমকল মহকুমার একাধিক পঞ্চায়েতে সেই কিস্তির টাকা ও আগের পড়ে থাকা পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা উন্নয়ন খাতে খরচই করতে পারেনি একাধিক পঞ্চয়েত। সূত্রের খবর, পঞ্চদশ অর্থ কমিশনে টাকা খরচের দিক থেকে ডোমকল ব্লকের সারাংপুর, ধুলাউড়ি, গড়াইমারী পঞ্চায়েতের অবস্থা খারাপ। এছাড়াও রানিনগর ২ ব্লকের কালীনগর-২ ও রানিনগর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতেরও একই দুরবস্থা। তবে শুধু এগুলিই নয়, এছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি পঞ্চায়েতে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা পড়ে থাকলেও  তা খরচ করা হয়নি। 
সারাংপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সাইদুল ইসলাম বলেন, আমার আগে যাঁরা বোর্ড চালিয়েছিলেন, তাঁদের পড়ে থাকা সাড়ে তিন কোটি টাকা খরচ করলাম বোর্ডে বসে। বিভিন্ন অঞ্চলে শৌচাগার, রাস্তা, সজলধারা প্রকল্পের কাজ চলছে। সেগুলির বিল বকেয়া আছে। এছাড়াও বেশ কয়েকটি প্রজেক্ট আছে, যেগুলির জন্য আমাদের কাছে পড়ে থাকা প্রায় এক কোটি টাকা খরচ হয়ে যাবে। 
রানিনগরের কালিনগর ২ পঞ্চায়েতের প্রধান মান্নাফ হোসেন বলেন, মিটিং ডাকলে মেম্বাররা আসছেন না। তাঁরা না আসায় আমরা টেন্ডার প্রকাশও করতে পারছি না। একই বিষয় নিয়ে একাধিকবার মিটিং ডাকতে হচ্ছে। তবে সদস্যদের সম্মতি পাওয়া যাচ্ছে। ফলে যে কাজ একদিন-দু’দিনে হতো সেই কাজের টেন্ডার প্রকাশ করতেই আমাদের দুই-তিন সপ্তাহ লেগে যাচ্ছে। তারপরেও আমরা চেষ্টা করছি। আশা করি, নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ওই টাকা খরচ করতে পারব।
রানিনগর ১ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান লায়লা বিবি বলেন, আমি তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় সদস্যদের মধ্যে রাগারাগি হচ্ছিল। ওঁরা ঠিকঠাক আসতেন না। এখন সব ঠিক হয়ে গেছে। আশা করি, সময়ের মধ্যে উন্নয়নমূলক কাজ শেষ করব আমরা। রানিনগর ২ ব্লক বিডিও কৃষ্ণ নির্মাল্য ভট্টাচার্য বলেন, পঞ্চদশ অর্থ কমিশনে আমাদের ব্লকের পারফরম্যান্স সার্বিকভাবে ভালোই। দু’টি পঞ্চায়েতের পারফরম্যান্স একটু খারাপ। তবে কাজ শুরু হয়েছে। আশা করি, খুব দ্রুত ভালো পারফরম্যান্স দেখতে পাব।
জলঙ্গির বিডিও সুব্রত মল্লিক বলেন, ভালো পারফরম্যান্সের দিক থেকে আমরা জেলায় চতুর্থ স্থানে রয়েছি। আমাদের ব্লকের সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েতের সার্বিক পারফরম্যান্স প্রায় ৭০ শতাংশ।
সম্পর্কিত সংবাদ