ফের মার্কিন প্রেসিডেন্টের কুর্সিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্বের নিয়ম বাতিলের জন্য অর্ডিন্যান্স জারি করেন তিনি। এই অর্ডিন্যান্স কার্যকর হলে ওয়ার্ক ভিসায় আমেরিকায় বসবাসকারী ভারতীয়দের সন্তানরা স্বাভাবিক নিয়মে সেদেশের নাগরিকত্ব পাবে না। আদালত অবশ্য ট্রাম্পের ওই সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। ফলে অভিবাসনে রাশ টানার উদ্যোগে পয়লা পদক্ষেপেই হোঁচট খেতে হয়েছে রিপাবলিকান নেতাকে। আমেরিকার শেষ জনগণনা অনুযায়ী, সেদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের সংখ্যা ৫৪ লক্ষ। দেশের মোট জনসংখ্যার ১.৪৭ শতাংশ। এরমধ্যে দুই তৃতীয়াংশই অভিবাসী। ৩৪ শতাংশের জন্ম আমেরিকায়। চাকরি থেকে রাজনীতি-আমেরিকায় প্রায় সর্বক্ষেত্রে ভারতীয়দের রমরমা। প্রশাসন ও বিভিন্ন কোম্পানির শীর্ষপদে রয়েছে বহু ভারতীয় বংশোদ্ভূত। কিন্তু ভারতীয়দের মার্কিন হয়ে ওঠার সূত্রপাত হল কীভাবে? এর পিছনে রয়েছে মুম্বইয়ের বস্ত্র ব্যবসায়ী ভিখাজি বালসারা। বিংশ শতাব্দীর গোড়ায় তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেছিলেন। কিন্তু কাজটা একেবারেই সহজ ছিল না। এজন্য দীর্ঘ আইনি লড়াই করতে হয়েছিল তাঁকে। শেষপর্যন্ত ১৭৯০ সালের ন্য্যাচরালাইজেশন আইন অনুসারে সেদেশের নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন বালসারা। ওই আইনে শুধুমাত্র শ্বেতাঙ্গদেরই নাগরিকত্ব প্রদানের সংস্থান ছিল। ১৯০৬ সালে পার্সি ব্যবসায়ী বালসারা ওই আইনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নিউইয়র্ক আদালতে মামলা করেন। তারপর টানা আইনি লড়াই। নিউইয়র্কের সার্কিট কোর্ট তাঁর যুক্তি মানতে অস্বীকার করে। তবে বালসারাকে উচ্চতর আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। শেষপর্যন্ত জয় ছিনিয়ে নেন তিনি। ১৯১০ সালে নিউইয়র্কের সাউথ ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট তাঁর নাগরিকত্বের আর্জি মঞ্জুর করে। বালসারার এই ঐতিহাসিক লড়াই অন্যান্য ভারতীয়দের নাগরিকত্ব অর্জনের রাস্তা সাফ করে দেয়।



