কুয়ালালামপুর: বিশ্বসেরার মুকুট ধরে রাখতে তখন প্রয়োজন মাত্র ৩ রান। হাতে ৫৩ বল। কিন্তু শাস্ত্রে রয়েছে, শুভস্য শীঘ্রম। তাই দেরি না করে পরের বলেই স্কোয়ার লেগে বাউন্ডারি হাঁকালেন ভারতের সনিকা চাল্কে। বল বাউন্ডারি লাইন ছুঁতেই দৌড়ে মাঠে প্রবেশ করলেন সতীর্থরা। হাতে তেরঙা। দুই ব্যাটার সনিকা ও তৃষাকে জড়িয়ে চলল টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের সেলিব্রেশন। কিছুক্ষণ পর আইসিসি’র চেয়ারম্যান জয় শাহের থেকে ট্রফি হাতে পেতেই বাঁধনছাড়া উল্লাসে মাতল টুর্নামেন্টের সফলতম দল। এই নিয়ে দু’বার অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলা বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হল। আর দু’বারই চ্যাম্পিয়ন ভারত।
Advertisement
কুয়ালালামপুরে খেতাবরক্ষার পথে একের পর এক প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে নিকি প্রসাদের নেতৃত্বাধীন টিম ইন্ডিয়া। ফাইনালেও তাঁদের প্রবল পরাক্রমে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৮২ রানেই গুটিয়ে যায় প্রোটিয়ারা। জবাবে ৫২ বল বাকি থাকতে ৯ উইকেটে জয় তুলে নিলেন সনিকারা। তিনটি উইকেট ও অপরাজিত ৪৪ রানের সুবাদে ম্যাচের সেরা গঙ্গাদি তৃষা। পাশাপাশি টুর্নমেন্টেরও সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ব্যাট হাতে মোট ৩০৭ রানের সঙ্গে ঝুলিতে ভরেছেন ৭টি উইকেট। এবারের বিশ্বকাপের সেরা আবিষ্কার তেলেঙ্গানার বদ্রচালমের তৃষা। টুর্নামেন্টের সেরার পুরস্কার তিনি উত্সর্গ করেছেন বাবা জি রামি রেড্ডিকে। রবিবার মেয়ের খেলা দেখতে স্টেডিয়ামে উপস্থিতও ছিলেন তিনি। তৃষার সাফল্যে ঝরালেন আনন্দাশ্রু। আসলে মাত্র দু’বছরের মেয়ের হাতে ব্যাট-বল তুলে দিয়েছিলেন ক্রিকেট পাগল জি রামি। শুধু তাই নয়, ছোটবেলা থেকে তৃষাকে জিমে নিয়ে যেতেন তিনি। সেখানেই ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করতেন জি রামি। গর্বিত বাবার কথায়, ‘সাধারণত বাচ্চারা ৮-৯ বছর বয়সে ক্রিকেট শুরু করে। তবে তখন প্রতিযোগিতা অনেক বেড়ে যায়। তাই আমি দু-বছর বয়স থেকেই তৃষাকে ক্রিকেটে নিয়ে আসি। পরে প্রতিদিন নেটে হাজারটা করে বল থ্রো ডাউন দিতাম।’ জি রামির আশা, শীঘ্রই সিনিয়র দলে জায়গা করে নেবেন তাঁর মেয়ে।
রবিবার টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৪৪ রানেই পাঁচ উইকেট খুইয়ে চাপে পড়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই ধাক্কা আর সামলাতে পারেনি প্রোটিয়ারা। তাদের হয়ে সর্বাধিক রান ভ্যান ভ্রুস্টের (২৩)। ভারতের হয়ে তৃষার তিন উইকেটের পাশাপাশি বৈষ্ণবী, আয়ূষি ও পারুনিকা ঝুলিতে ভরেন দু’টি করে শিকার। রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই আউট হন ওপেনার কমলিনী (৮)। তবে তিনে নামা সনিকাকে (অপরাজিত ২৬) সঙ্গে নিয়ে লক্ষ্য অতিক্রম করতে অসুবিধা হয়নি তৃষার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: দক্ষিণ আফ্রিকা ৮২ (মাইক ২৩, তৃষা ১৫-৩)। ভারত ৮৪-১ (তৃষা অপরাজিত ৪৪, সনিকা অপরাজিত ২৬)। ভারত ৯ উইকেটে জয়ী।
রবিবার টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৪৪ রানেই পাঁচ উইকেট খুইয়ে চাপে পড়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই ধাক্কা আর সামলাতে পারেনি প্রোটিয়ারা। তাদের হয়ে সর্বাধিক রান ভ্যান ভ্রুস্টের (২৩)। ভারতের হয়ে তৃষার তিন উইকেটের পাশাপাশি বৈষ্ণবী, আয়ূষি ও পারুনিকা ঝুলিতে ভরেন দু’টি করে শিকার। রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই আউট হন ওপেনার কমলিনী (৮)। তবে তিনে নামা সনিকাকে (অপরাজিত ২৬) সঙ্গে নিয়ে লক্ষ্য অতিক্রম করতে অসুবিধা হয়নি তৃষার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: দক্ষিণ আফ্রিকা ৮২ (মাইক ২৩, তৃষা ১৫-৩)। ভারত ৮৪-১ (তৃষা অপরাজিত ৪৪, সনিকা অপরাজিত ২৬)। ভারত ৯ উইকেটে জয়ী।



