চণ্ডীগড়, ২০ ডিসেম্বর: প্রয়াত হরিয়ানার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা আইএনএলডি প্রধান ওম প্রকাশ চৌতালা। বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। আজ, শুক্রবার গুরুগ্রামে নিজের বাসভবনেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরেই শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। পরিবার সূত্রে খবর আজ, শুক্রবার সকালে হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তড়িঘড়ি তাঁকে গুরুগ্রামের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই সকাল ১১টা ৫৫ মিনিট নাগাদ মৃত্যু হয় এই বর্ষীয়ান রাজনীতিকের। ইতিমধ্যেই তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন সে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী নায়েব সিং সাইনি। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, আইএনএলডি-র সুপ্রিমো তথা হরিয়ানার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওম প্রকাশ চৌতালার মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। সারা জীবন তিনি দেশ ও সমাজের সেবা করেছেন। তাঁর মৃত্যু দেশ তথা হরিয়ানার রাজনীতির জন্য বড়সড় ক্ষতি। পাশাপাশি তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন হরিয়ানার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা ভূপেন্দ্র সিং হুডাও। শোকপ্রকাশ করেছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে।
Advertisement
উল্লেখ্য,সাতবারের বিধায়ক হওয়ার পাশাপাশি পরপর চারবার হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসে দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। ১৯৮৯-২০০৫ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী থেকে কার্যত রেকর্ড গড়েছিলেন আইএনএলডি প্রধান। ১৯৭০ সালে প্রথমবার বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, জয়ী হন চৌতালা। এরপর ১৯৮৯ সালের ৭ ডিসেম্বর হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী হন। কিন্তু এই পদে ছিলেন মাত্র ১৭১ দিন। কিন্তু দু’মাস পর ১৯৯০ সালের ১২ জুলাই দ্বিতীয়বার হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এবার মাত্র ৫ দিন এই পদে ছিলেন চৌতালা। এরপর ১৯৯১ সালের ২২ মার্চ তিনি তৃতীয়বারের জন্য হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেন। এবারের মেয়াদ ছিল মাত্র ১৪ দিন। এরপর প্রায় এক বছর পর ১৯৯৯ সালের ২৪ জুলাই তিনি চতুর্থবারের জন্য হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী হন। এইবার তিনি কুর্সিতে প্রায় চারমাস ছিলেন। ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বরে বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হয়। শেষে ২০০০ সালের ২ মার্চ চৌতালা শেষ এবং পঞ্চমবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হন। এই দফাতেই তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পাঁচ বছরের মেয়াদ সম্পূর্ণ করতে পেরেছিলেন।
অন্যদিকে, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০০৮ সালে অভিযুক্ত হন ওম প্রকাশ চৌতালা। ঘটনার তদন্তভার নেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। এরপর ২০১৩ সালে ওম প্রকাশ এবং তাঁর ছেলে অজয় সিং চৌতালাকে ১০ বছরের কারাদণ্ডের সাজা দেয় দিল্লির আদালত। পরে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হলে শাস্তি বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্টও। এরপর সাজা অনুযায়ী তিহার জেলেই ছিলেন তিনি। জেলেই পড়াশোনা করে ২০১৭ সালে দ্বাদশ শ্রেণির গণ্ডিও পার করেন চৌতালা। শেষে ২০২১ সালে প্রায় সাড়ে নয় বছর সাজা কাটার পর মুক্তি পান তিনি।
অন্যদিকে, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০০৮ সালে অভিযুক্ত হন ওম প্রকাশ চৌতালা। ঘটনার তদন্তভার নেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। এরপর ২০১৩ সালে ওম প্রকাশ এবং তাঁর ছেলে অজয় সিং চৌতালাকে ১০ বছরের কারাদণ্ডের সাজা দেয় দিল্লির আদালত। পরে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হলে শাস্তি বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্টও। এরপর সাজা অনুযায়ী তিহার জেলেই ছিলেন তিনি। জেলেই পড়াশোনা করে ২০১৭ সালে দ্বাদশ শ্রেণির গণ্ডিও পার করেন চৌতালা। শেষে ২০২১ সালে প্রায় সাড়ে নয় বছর সাজা কাটার পর মুক্তি পান তিনি।



