নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বুধবার রাত ১০টা ৫০ থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টা ৫০। এই ৮ ঘণ্টাতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন ৫ প্রসূতি। কিন্তু ওই ৮ ঘণ্টায় কী এমন হল যে পাঁচজন অসুস্থ হয়ে পড়ছেন এবং একজনের মৃত্যু হল? এই ‘হিউম্যান এরর’ এবং ‘মেডিসিন এরর’—এই দুটি আশঙ্কাকেই গুরুত্ব দিচ্ছে স্বাস্থ্যদপ্তরের তদন্ত কমিটি। কমিটি জানতে পেরেছে, ওই ৫ প্রসূতিকে স্ত্রীরোগ বিভাগের প্রথম বর্ষের এক পিজিটি অ্যানাসথেসিয়া দিয়েছিলেন। সিজার করেছিলেন দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের কয়েকজন পিজিটি। রবিবার এসএসকেএম হাসপাতালে (পিজি হাসপাতাল) তদন্ত কমিটির ১৩ জন সদস্য এবং স্বাস্থ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মেদিনীপুর মেডিক্যালের স্ত্রীরোগ বিভাগের প্রধান ও সেখানকার অধ্যক্ষ। সেখানে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যসচিব সাফ সাফ জানিয়ে দেন, প্রসূতি মৃত্যু কাণ্ডে যে বা যাঁরাই দোষী, তাঁদের ছাড়া হবে না। কঠোর ‘অ্যাকশন’ নেওয়া হবে।
Advertisement
এদিন রবিবার পৌনে ৮টা নাগাদ গ্রিন করিডর করে ভেন্টিলেশনে থাকা তিন আশঙ্কাজনক প্রসূতিকে নিয়ে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালের দিকে রওনা দেয় অ্যাম্বুলেন্স। একজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। রাতের দিকে তাঁরা এসে পৌঁছন। পিজি সূত্রের খবর, অসুস্থ প্রসূতিদের চিকিৎসায় ৫ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। অসুস্থদের মধ্যে দু’জনকে সিসিইউতে ও একজনকে আইটিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনও ধন্দে রয়েছেন কমিটির সদস্যরা। তাদের একাংশ বলেন, রহস্য অনেক। প্রথমত, রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইনকে ‘ভিলেন’ করা হচ্ছে। ধরা যাক, স্যালাইন নিম্নমানের। তাহলে সেই ব্যাচের স্যালাইন তো আরও রোগীদের দেওয়া হয়েছিল। সেখানে গোলমাল হল না কেন? রিংগার ল্যাকটেট, অক্সিটোসিন, গ্যাসের ওষুধ, সেপট্রায়োজোনসহ ৫ ধরনের ‘কমন’ ওষুধ ও ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছিল প্রসূতিদের। সেগুলির নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে ড্রাগ টেস্টের জন্য। কিন্তু প্রশ্ন হল, যে পরিমাণ রিংগার ল্যাটেক গাইনিতে ব্যবহার হয়, তার ১০ গুণ ব্যবহার হয় মেডিসিন ও অন্য বিভাগে। সেপট্রায়োজোনের মতো অ্যান্টিবায়োটিক, একই গ্যাসের ওষুধও মেডিসিনসহ বহু বিভাগে গাইনির তুলনায় অনেক বেশি ব্যবহৃত হয়। সেখানকার রোগীদের তো কোনও বিপদ হল না, হল ওই পাঁচজনের! দ্বিতীয় প্রশ্ন, গুরুতর অসুস্থ প্রসূতিদের বেড হেড টিকিটে কেন মুচলেকার মতো লেখা ছিল— এখানকার রিংগার ল্যাকটেট স্যালাইন ব্যবহার করে বিপদ হলে হাসপাতাল দায়ী থাকবে না। নীচে প্রসূতির বাড়ির লোকজনের সইও ছিল। তিন, যদি ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াজনিত অ্যালার্জির কারণে বিপদ হয়ই, তা হওয়ার কথা দেওয়া প্রথম আধঘণ্টার মধ্যে। অথচ কেন বিপদ হল ৬ ঘণ্টা পর? চার, কেন ১০ হিমোগ্লোবিন থাকা কয়েকজন প্রসূতির সিজারের পর হিমোগ্লোবিন নেমে হল ৫? কমিটি সূত্রের খবর, মৃত প্রসূতির ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এবং ড্রাগ টেস্টের রিপোর্ট হাতে আসা খুব জরুরি। না-হলে এই ঘটনার রহস্যভেদ করা খুব কঠিন। এদিকে গঙ্গাসাগরেও বিতর্কিত স্যালাইনের খবরে হইচচই ছড়ায়। প্রশাসন জানিয়েছে, সেই স্যালাইন আনা হলেও ব্যবহার করা হয়নি।
এদিকে মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনও ধন্দে রয়েছেন কমিটির সদস্যরা। তাদের একাংশ বলেন, রহস্য অনেক। প্রথমত, রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইনকে ‘ভিলেন’ করা হচ্ছে। ধরা যাক, স্যালাইন নিম্নমানের। তাহলে সেই ব্যাচের স্যালাইন তো আরও রোগীদের দেওয়া হয়েছিল। সেখানে গোলমাল হল না কেন? রিংগার ল্যাকটেট, অক্সিটোসিন, গ্যাসের ওষুধ, সেপট্রায়োজোনসহ ৫ ধরনের ‘কমন’ ওষুধ ও ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছিল প্রসূতিদের। সেগুলির নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে ড্রাগ টেস্টের জন্য। কিন্তু প্রশ্ন হল, যে পরিমাণ রিংগার ল্যাটেক গাইনিতে ব্যবহার হয়, তার ১০ গুণ ব্যবহার হয় মেডিসিন ও অন্য বিভাগে। সেপট্রায়োজোনের মতো অ্যান্টিবায়োটিক, একই গ্যাসের ওষুধও মেডিসিনসহ বহু বিভাগে গাইনির তুলনায় অনেক বেশি ব্যবহৃত হয়। সেখানকার রোগীদের তো কোনও বিপদ হল না, হল ওই পাঁচজনের! দ্বিতীয় প্রশ্ন, গুরুতর অসুস্থ প্রসূতিদের বেড হেড টিকিটে কেন মুচলেকার মতো লেখা ছিল— এখানকার রিংগার ল্যাকটেট স্যালাইন ব্যবহার করে বিপদ হলে হাসপাতাল দায়ী থাকবে না। নীচে প্রসূতির বাড়ির লোকজনের সইও ছিল। তিন, যদি ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াজনিত অ্যালার্জির কারণে বিপদ হয়ই, তা হওয়ার কথা দেওয়া প্রথম আধঘণ্টার মধ্যে। অথচ কেন বিপদ হল ৬ ঘণ্টা পর? চার, কেন ১০ হিমোগ্লোবিন থাকা কয়েকজন প্রসূতির সিজারের পর হিমোগ্লোবিন নেমে হল ৫? কমিটি সূত্রের খবর, মৃত প্রসূতির ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এবং ড্রাগ টেস্টের রিপোর্ট হাতে আসা খুব জরুরি। না-হলে এই ঘটনার রহস্যভেদ করা খুব কঠিন। এদিকে গঙ্গাসাগরেও বিতর্কিত স্যালাইনের খবরে হইচচই ছড়ায়। প্রশাসন জানিয়েছে, সেই স্যালাইন আনা হলেও ব্যবহার করা হয়নি।



