Bartaman Logo
১৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রসূতির মৃত্যু: স্যালাইন প্রস্তুতকারী সংস্থার কাছে নমুনা চাইল সিআইডি

প্রসূতির মৃত্যু: স্যালাইন প্রস্তুতকারী সংস্থার কাছে নমুনা চাইল সিআইডি
  • ২৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় স্যালাইন প্রস্তুতকারী সংস্থার কাছ থেকে নমুনা চেয়ে চিঠি পাঠাল সিআইডি। তাঁকে যে-ব্যাচের স্যালাইন দেওয়া হয়েছিল সেটি চেয়ে পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই হাসপাতাল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে তদন্তকারী সংস্থা। দুটি নমুনাই পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে ল্যাবরেটরিতে। 
Advertisement
প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর তদন্তে নেমে তদন্তকারীরা জানার চেষ্টা করছেন, সিনিয়র ডাক্তারদের গাফিলতি ছাড়া আর কোথায় কোথায় ভুল হয়েছে। ওই মহিলা ভর্তি হওয়ার পর তাঁকে কী কী ওষুধ ও ক’টি স্যালাইন দেওয়া হয়েছিল তার তালিকা সংগ্রহ করেছেন তাঁরা। এই নিয়ে তাঁরা কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সঙ্গে। প্রাথমিকভাবে সিআইডি জেনেছে, এই সময় কোনও ত্রুটি ছিল না। অপারেশন থিয়েটারে কারা ওই অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁদের সঙ্গে কথা বলে অফিসাররা জেনেছেন, সেইসময় মহিলার কোনও সমস্যা ছিল না। তবে অপারেশন থিয়েটারে কী হল তা তদন্তকারীরা জানতে পারছেন না সেখানে সিসি ক্যামেরা না-থাকায়। একইসঙ্গে যে চিকিৎসক অ্যানাসথেসিয়া করেছিলেন তাঁর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। 
তবে সিআইডির কাছে আসা তথ্য অনুযায়ী, অ্যানাসথেসিয়ার ডোজ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হয়ে থাকতে পারে। তদন্তকারীরা জেনেছেন, হাসপাতালে সিনিয়র অ্যানাসথেটিস্ট রয়েছেন। শুধু খাতায়কলমেই তাঁর উপস্থিতি দেখানো হয়। বাস্তবে এখানেও জুনিয়র ডাক্তাররাই ভরসা হাসপাতালের। তদন্তে উঠে এসেছে, অনেকসময় ওটি রুমে অ্যানাসথেসিয়ার ডোজ দেওয়ার ক্ষেত্রে গোলমাল হয়েছে। সেজন্য রোগীর জ্ঞান আর ফেরেনি। প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর দিন সিনিয়র অ্যানাসথেটিস্ট কোথায় ছিলেন, তা জানার চেষ্টা চলছে। অপারেশন শেষে যে ব্যাচের স্যালাইন দেওয়া হয়েছিল তাতে কোনও সংক্রমণ হয়েছিল কি না তা  জানতে ল্যাব রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা।
এদিকে, মেদিনীপুর মেডিক্যালে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন চিকিৎসক। প্রসূতি মৃত্যুতে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজের আর্জি জানিয়েছেন ওই অ্যানাসথেটিস্ট। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিসি হেনস্তারও অভিযোগ করেছেন তিনি। বিষয়টিতে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তাঁর আইনজীবী। আদালতে তাঁর দাবি, ওই চিকিৎসকের অ্যানাস্থেসিয়ার কারণে ওই মহিলার মৃত্যু হয়নি। তাই তাঁর বিরুদ্ধে রুজু হওয়া এফআইআর খারিজ করা হোক। এই বিষয়ে মামলা দায়ের করারও অনুমতি দিয়েছেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ