Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রসূতি বিভাগ নিয়ে সতর্ক স্বাস্থ্যদপ্তর, ওটিতে কড়া নজরদারি, গাফিলতি হলেই ব্যবস্থা 

প্রসূতি বিভাগ নিয়ে সতর্ক স্বাস্থ্যদপ্তর, ওটিতে কড়া নজরদারি, গাফিলতি হলেই ব্যবস্থা 
  • ১৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুনরাবৃত্তি যাতে আর না হয় তারজন্য কড়া নজরদারি শুরু করেছে স্বাস্থ্যদপ্তর। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রসূতি বিভাগে প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা উপচে পড়ে। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি জটিল অপারেশন করে এই বিভাগের চিকিৎসকরা নজর কেড়েছেন। কিন্তু তারপরও সতর্ক কর্তৃপক্ষ। ওটিতে কর্তব্যরত প্রসূতি চিকিৎসক বা অ্যানাস্থেটিস্ট ঠিকমতো সময় দিচ্ছেন কিনা তা দেখা হবে। অনেক সময় একজন চিকিৎসক পরপর অপারেশন করেন। অ্যানাস্থেসিয়ার চিকিৎসকও নির্দিষ্ট সময়মতো ওয়ার্ডে থাকেন না বলে অভিযোগ। অনেক চিকিৎসক তড়িঘড়ি হাসপাতালে অপারেশন সেরে নার্সিংহোমে চলে যান বলে অনেকেরই দাবি। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ সতর্ক হচ্ছে। 
Advertisement
এক আধিকারিক বলেন, নির্দিষ্ট সংস্থার ১৪ রকম স্যালাইনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও ওই সংস্থার স্যালাইন ব্যবহার করা হতো। তা বন্ধ হওয়ার পর কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। পর্যাপ্ত পরিমাণ স্যালাইন পাওয়া যাচ্ছে না। তবে শুধু স্যালাইনই নয়, ওটিতে চিকিৎসকদেরও গাফিলতি ছিল। সেটা স্বাস্থ্যদপ্তরের রিপোর্টেও পাওয়া গিয়েছে। ওটিতে অনেক সময় চিকিৎসকদের গাফিলতি নজরে আসে। ওই ঘটনার পর চিকিৎসকদের সতর্ক করা হয়েছে। কেউ গাফিলতি করলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ওটিতে কবে কোন চিকিৎসকের ডিউটি রয়েছে, তাঁরা কতক্ষণ সময় দিচ্ছেন বা কটি অপারেশন করছেন সেই তথ্য নেওয়া হচ্ছে। একটি অপারেশনের কতক্ষণ পর দ্বিতীয়টি করা হচ্ছে সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, এখানকার চিকিৎসকরা যথেষ্টই দায়িত্বশীল। আর জি করের ঘটনার পর সারা রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে অস্থির পরিবেশ তৈরি হলেও বর্ধমানে তেমনটা হয়নি। অনেক চিকিৎসক অতিরিক্ত সময় ডিউটি করেছিলেন। চিকিৎসকদের রোস্টারের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ওষুধ প্রয়োগেও নজর দেওয়া হয়েছে। 
বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপি তাপস ঘোষ বলেন, ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকান থেকে স্যালাইন নেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা যথেষ্টই দায়িত্বশীল। এখানকার প্রসূতি বিভাগের চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম বলেন, চিকিৎসা পরিষেবার উপর সর্বদা নজর থাকে। হাসপাতালের এক আধিকারিক বলেন, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বিপত্তি হওয়ার পরই বেশকিছু গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে প্রসূতি বিভাগের চিকিৎসার উপর বাড়তি নজরদারি দিতে বলা হয়েছে। এক বছর আগে বিভিন্ন কারণে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রসূতি মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছিল। বিশেষ করে নাবালিকা প্রসূতি মৃত্যুর হার বেশি ছিল। বেশ কয়েকটি পদক্ষেপের পর মৃত্যুর সংখ্যা কমে গিয়েছে। ওটিতে কোনওরকম গাফিলতি মানা হবে না। সেটা স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ