Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুরসভার রাজস্ব ঘাটতি সামলাতে জরুরি বৈঠক ডাকলেন মেয়র ববি

পুরসভার রাজস্ব ঘাটতি সামলাতে জরুরি বৈঠক ডাকলেন মেয়র ববি
  • ৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিভিন্ন খাতে পুরসভার খরচ দিন দিন বাড়ছে। সঙ্গে রয়েছে বিপুল দেনার বোঝা। কিন্তু পুরসভার আয় সেভাবে বাড়েনি। বরং গত আর্থিক বছরের এই সময় পর্যন্ত পুরসভা বিভিন্ন বিভাগ থেকে যে রাজস্ব আদায় করেছিল, চলতি আর্থিক বছরে তা অনেকটাই ঘাটতিতে চলছে। পুরসভার হিসেব বলছে, গতবারের তুলনায় চলতি অর্থবর্ষের আগস্ট মাস পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ১০৯ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকা কম হয়েছে। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সেই ঘাটতি খানিকটা কমে হয়েছে ৭৮ কোটি ১৬ লক্ষ টাকা। ধাক্কা খেয়েছে সম্পত্তি কর আদায়। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এই খাতে গতবারের তুলনায় আয় ১ কোটি ৬৫ টাকা কম হয়েছে। যেখানে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য মাত্রায় আয় বাড়ে পুরসভার, সেখানে এই ঘাটতি নিয়ে যথারীতি চিন্তায় কর্তৃপক্ষ। এই পরিস্থিতিতে আগামী ১৩ নভেম্বর পর্যালোচনা বৈঠক ডেকেছেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। কোন পথে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বৃদ্ধি করা যায়, তার রূপরেখা ঠিক হবে ওই বৈঠকে। পুরকর্তাদের একাংশের দাবি, চলতি বছর লোকসভা নির্বাচনের কারণে প্রায় তিন মাস রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে সেভাবে ঝাঁপানো যায়নি। সেকারণেই এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই আর্থিক বছরের শেষে গিয়ে দেখা যাবে, ঘাটতি মিটিয়ে একলাফে আয় অনেকটাই বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।
Advertisement
সম্পত্তি করের পাশাপাশি বিল্ডিং, লাইসেন্স ফি, পার্কিং, জঞ্জাল সাফাই এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ সহ বিভিন্ন বিভাগ থেকে রাজস্ব আদায় করে পুরসভা। সেখানে দেখা যাচ্ছে, গত অর্থবর্ষের (২০২৩-’২৪) ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সব মিলিয়ে ১ হাজার ২৮৬ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা আদায় হয়েছিল। সেখানে চলতি অর্থবর্ষে এই সময়কালে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ১ হাজার ২০৮ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ ৭৮ কোটি ১৬ লক্ষ টাকা কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। যদিও, গত আগস্ট মাসে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১০৯ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকা। সার্বিক আয়ের ক্ষেত্রে ঘাটতি কিছুটা কমানো গিয়েছে। তবে, সম্পত্তি করের প্রশ্নে গত আগস্ট মাসে আয় বাড়লেও অক্টোবরে এসে তা ঘাটতিতে চলছে। গত অর্থবর্ষের আগস্টের তুলনায় এই অর্থবর্ষের আগস্ট মাস পর্যন্ত ১ কোটি ৯৯ লক্ষ টাকা বাড়তি আদায় হয়েছিল। কিন্তু ৩১ অক্টোবরে এসে সেটাই ১ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা ঘাটতিতে চলছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক কর্তা বলেন, ‘প্রতি বছর এই খাতে ১২ থেকে ১৩ শতাংশ বাড়তি রাজস্ব আদায় হয়। এবার তা অনেকটাই কমেছে। তার অন্যতম কারণ হল, অর্থবর্ষের শুরুতে প্রায় তিন মাস ভোটের জন্য কাজের গতি শ্লথ ছিল। করখেলাপিদের পিছনে লেগে থাকার সুযোগ সেভাবে হয়নি। ফলে আয় আশানুরূপ বাড়েনি।’ 
এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই চাপ বেড়েছে পুর-কোষাগারে। ঠিকাদার সহ বিভিন্ন জায়গায় পুরসভার দেনা প্রায় হাজার কোটি টাকা ছুঁয়েছে। সেকারণেই পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে রিভিউ বৈঠক ডেকেছেন মেয়র।
সম্পর্কিত সংবাদ