Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুরসভার পানীয় জলেই রঙিন মাছের চাষ! বিস্মিত চুঁচুড়ার পুরকর্তারা

পুরসভার পানীয় জলেই রঙিন মাছের চাষ! বিস্মিত চুঁচুড়ার পুরকর্তারা
  • ৮ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: বেআইনিভাবে পুরসভার পানীয় জল টেনে চলছিল রঙিন মাছের চাষ। একের পর এক চৌবাচ্চা, অ্যাকোয়ারিয়াম সেই জলে পরিপূর্ণ। তাতে চড়ে বেড়াচ্ছে নানা বাহারের শৌখিন মাছ। সব মিলিয়ে এমন জলাধারের সংখ্যা ৫০-এর উপরে। প্রায় ৫ বছর ধরে পুরসভাকে এভাবেই বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মাছের চাষ করে চলেছেন চুঁচুড়ার বাসিন্দা রতন বিশ্বাস। তিনি থাকেন ২ নম্বর কাপাসডাঙার নিউ জিএস কলোনিতে। এতদিন পর এব্যাপারে টনক ন‌ড়েছে চুঁচুড়া পুরসভার। মঙ্গলবার পুরকর্তারা কাপাসডাঙায় রতনের ‘আড়তে’ হানা দিতেই চক্ষু চড়কগাছ তাঁদের। কীভাবে বিনা পয়সায় পাওয়া পানীয় জলের অপব্যবহার হচ্ছে, তা দেখে বিস্মিত তাঁরা। এই জলের জোগান আসছে পুরসভার পানীয় জলপ্রকল্পের পাইপলাইন থেকে। বেআইনিভাবে জলের সংযোগ নেওয়ার কথা জানাজানি হতেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। প্রতিবেশীদের দাবি, রতন সদ্য আরও দু’টি চৌবাচ্চা বানিয়েছেন। সেগুলিতেও চড়ছে রঙিন মাছ। এই কারবার চলছে পুরসভাকে অন্ধকারে রেখেই।
Advertisement
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, জলের সরবরাহ বহাল রাখতে তিনটি জলের সংযোগ নিয়েছিলেন রতন। তারমধ্যে একটি নিয়েছিলেন ভাড়াটিয়ার নামে। সেই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য। এই ঘটনায় পুরসভার পানীয় জলের বেআইনি ব্যবহারের পাশাপাশি পুরকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। পাঁচ বছর ধরে দিনরাত জল ব্যবহার করা হলেও পুরকর্তাদের কাছে কেন এই খবর ছিল না, তা নিয়ে সরব হয়েছেন বাসিন্দারা। এদিন পরিস্থিতি দেখে পুরসভা রতন বিশ্বাসকে আইনি নোটিস ধরিয়েছে। রতন জানিয়েছেন, রঙিন মাছ চাষ করতে পানীয় জলই প্রয়োজন। তাই তিনি পুরসভার পানীয় জল ব্যবহার করেন। তাঁর দাবি, বিষয়টি যে বেআইনি, তা তিনি জানতেন না। আমি বাণিজ্যিকভাবে জল ব্যবহারের অনুমতি চাইব ভেবেছিলাম। কিন্তু ব্যবসায় মন্দা চলছে। অনেক চৌবাচ্চা থাকলেও তার মধ্যে সবক’টিতে মাছ নেই। সেভাবে লাভ না হওয়ায় তাই আর আবেদন করা হয়নি। পুরসভা নোটিস দিয়ে অফিসে দেখা করতে বলেছে। দ্রুত এব্যাপারে পদক্ষেপ করব।
পুরসভার সিআইসি সদস্য (জল) দিব্যেন্দু অধিকারী বলেন, অন্তত ১৫টি চৌবাচ্চা ও একগুচ্ছ অ্যাকোয়ারিয়ামে পুরসভার পানীয় জল ব্যবহার করে মাছের চাষ করছিলেন ওই যুবক। এটা বেআইনি। আমি নিজে পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। দু’টি পৃথক হোল্ডিং নম্বর ব্যবহার করে ওই যুবক পুরসভার জল নিচ্ছেন। আমরা আইনি পদক্ষেপ করব। শহরে বেআইনিভাবে পুরসভার জল ব্যবহার নিয়ে অভিযান করা হবে। এ নিয়ে কটাক্ষ করেছেন বিজেপির জেলার সাধারণ সম্পাদক সুরেশ সাউ। তিনি বলেন, নিশ্চিতভাবে ওই যুবকের সঙ্গে তৃণমূলের মাথাদের সুসম্পর্ক আছে। নাহলে এমন অনিয়মের সুযোগ সাধারণ মানুষ কেমন করে পাবেন? আর্থিক সঙ্কটে ভুগছে চুঁচুড়া পুরসভা। সম্প্রতি কর্মীদের ভাতা দিতে না পারায় সেই সঙ্কট বেআব্রু হয়েছে। এরপরেই পুরসভা আর্থিক সঙ্কট কাটানোর চেষ্টা শুরু হয়েছে। তার জেরেই জলের বেআইনি ব্যবহার নিয়ে শুরু হয়েছে অভিযান।
সম্পর্কিত সংবাদ