নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: গৃহস্থ বাড়ি অথচ সেখানে গজিয়ে উঠেছে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। কোথাও রুফটপ রেস্তরাঁ হয়েছে। কোথাও হয়েছে ছাত্র-ছাত্রীদের থাকার মেস বা লেডিজ হোস্টেল। রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিংয়ে এই ব্যবসা দেদার চলচে। কিন্তু পুরসভার ভাণ্ডারে এক টাকাও কর জমা পড়ছে না। আয় বাড়াতে এবার এই ধরনের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের দিকে নজর দিতে চাইছে দক্ষিণ দমদম পুরসভা। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সমীক্ষাও শুরু হয়েছে।
Advertisement
দক্ষিণ দমদমে ওয়ার্ড সংখ্যা ৩৫। কলকাতা ও বিধাননগর লাগোয়া এই পুর এলাকায় রোজই তৈরি হচ্ছে নতুন বহুতল। জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। কিন্তু পুরসভা কর পাচ্ছে না। ফলে আয় সেই অর্থে বাড়ছে না। দমদম স্টেশন থেকে নাগেরবাজার পর্যন্ত দমদম রোডের দু’দিকে কয়েক হাজার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছে। তার সিংহভাগই পুরসভার লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ। মূলত রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিংয়ের একতলা সহ বিভিন্ন ফ্লোর ভাড়ায় নিয়ে বিভিন্ন সংস্থা অফিস খুলেছে। কেউ আবার রেস্তরাঁ সহ মেস ও হস্টেল তৈরি করেছে। মালিক মোটা অঙ্কের টাকা রোজগার করলেও পুরসভার কোষাগারে কিছুই জমা পড়ছে না। এই ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে এইসব এলাকায় বহু জালিয়াত অফিস খুলে চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ। সেই সংস্থাগুলি কয়েক মাস চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে তারপর পাততাড়ি গুটিয়ে হাওয়া হয়ে যাচ্ছে। তাই সমস্ত দিক থেকে নজরদারি বাড়ানো ও আয় বৃদ্ধির স্বার্থে এবার শহরের সবকটি ওয়ার্ডে সার্ভের কাজ শুরু করেছে পুরসভা। পুরকর্মীরাই সার্ভের কাজ করছেন। পুরসভার আধিকারিকদের বক্তব্য, করোনা পরিস্থিতির পর নতুন করে শহরে প্রচুর ছোট-বড় দোকান তৈরি হয়েছে। ওয়ার্ডভিত্তিক সমীক্ষা ছাড়া কত সংখ্যক বসতবাড়ি বাণিজ্যিক স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে তা বোঝা সম্ভব নয়। দক্ষিণ দমদম পুরসভার চেয়ারম্যান পারিষদ সঞ্জয় দাস বলেন, ‘স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে পুরসভা বিভিন্ন খাতে আয় বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তার জন্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির উপরও নজর দেওয়া হচ্ছে। আমরা নতুন করে কোনও প্রতিষ্ঠানের উপর কর চাপাচ্ছি না। কিন্তু অনুমতি ও ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া রেসিডেন্সিয়াল বাড়িতে যে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড চলছে তা চিহ্নিত করে নিয়মের মধ্যে আনার চেষ্টা করা হবে। সে জন্য সমীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। সমস্ত ওয়ার্ডে কাজ শেষ হওয়ার পর পুর আইন মেনে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’



